প্লাস্টিকের গ্রহে পরিণত হচ্ছে পৃথিবী!

প্লাস্টিকের অধিক উত্পাদন এবং খোলা প্রকৃতিতে এর দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বাড়ছে আশংকাজনক হারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উত্পাদিত প্লাস্টিকের পরিমাণ ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন। আর তাদের হিসেবে ২০৫০ সাল নাগাদ প্লাস্টিকের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ বিলিয়ন টনে।

কোনোই সন্দেহ নেই যে প্লাস্টিক একটি অতি আশ্চর্য উপাদান। স্থায়ীত্ব এবং উপযোগিতার কারণেই ইস্পাত, সিমেন্ট এবং ইট ছাড়া মানুষের তৈরি আর সব কিছু থেকে এই জিনিসটির উত্পাদনের হার বেশি। আর সেই সংখ্যাটি নিউ ইয়র্কের ২৫ হাজার এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সমান। কিংবা ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) হাতির ওজনের সমপরিমাণ। আর এই বিশাল পরিমাণ উত্পাদিত প্লাস্টিকের প্রায় ৭৯ শতাংশই ছড়িয়ে পড়ছে খোলা প্রকৃতিতে, সাগর মহাসাগরে। প্লাস্টিক বর্জ্যে দিনে দিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

ড. রোল্যান্ড গেয়ার নামের এক বিশেষজ্ঞ বিবিসিকে বলেছেন, ‘এই পৃথিবী খুব দ্রুতই পরিণত হবে একটি প্লাস্টিকের তৈরি গ্রহে। আর   যদি আমরা এমনটা না চাই, তাহলে বিশেষ করে প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস ব্যবহারে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোলজিস্ট প্লাস্টিকের উত্পাদন এবং ব্যবহার ও দূষণ সম্পর্কে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। আর তাতে দেখা যাচ্ছে যে, এই বিপুল পরিমাণ প্লস্টিক পণ্যের অন্তত অর্ধেক উত্পাদন হয়েছে গত ১৩ বছরে।

বাতিল প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার হয়েছে শতকরা মাত্র ৯ ভাগ। ১২ শতাংশকে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ২০১৪ সালে রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য হার ইউরোপে ছিল শতকরা ৩০ ভাগ। সবচেয়ে কম রিসাইক্লিং হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে যা মাত্র ৯ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্যের অধিকহারে উত্পাদন শুরু হয় ১৯৫০ এর সময় থেকে। যেহেতু প্লাস্টিক পঁচে না, তাই বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এটিকে তাপ প্রয়োগ করে নিঃশেষ করে দেয়া দরকার।

ইত্তেফাক/নূহু