পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশসমূহকে অর্থায়ন, উদ্ভাবনী সমাধান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদারকল্পে এগিয়ে আসতে হবে’।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অভিযোজন, অবকাঠামোগত অর্থায়ন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রায়ন’ শিরোনামে জাতিসংঘের পানি ও দুর্যোগ বিষয়ক ৩য় বিশেষ থিমেটিক সেশনে একথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকি বিশেষ করে পানি বিষয়ক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে অভিযোজন ও প্রশমন প্রক্রিয়ায় আমরা ওডিএ, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও বহু পাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি)-এর মাধ্যমে অর্থায়ন ইত্যাদি বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রত্যাশা করি’।
পরিকল্পনা মন্ত্রী, বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান সম্প্রদায়কে সকল বাধা অতিক্রম করে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে জ্ঞান, ধারণা ও সর্বোত্তম চর্চার একটি নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার একজন নিবেদিত সমথর্ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চ পর্যায়ের পানি বিষয়ক প্যানেলের ‘কল টু অ্যাকশান অন ওয়াটার’- এর প্রতি বাংলাদেশ সরকার সবর্দাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
IMG0
সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ ও জলোচ্ছাসসহ সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বিপর্যয় মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সক্ষমতা সৃষ্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা এ সভায় তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের জলবায়ু ঝুঁকি প্রশমণ ও পানি বিষয়ক বিশেষ দূত ড. হ্যান সুং-সো সেশনটির সভাপতিত্ব করেন। হাঙ্গেরীর রাষ্ট্রপতি জ্যানোস অ্যাডের, মৌরিশাসের রাষ্ট্রপতি মিজ্ আমিনাহ্ গুরিব-ফাকিম এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পিটার থমসন ইভেন্টটিতে বক্তৃতা দেন।
জাতিসংঘের পানি ও দুর্যোগ বিষয়ক এই ৩য় বিশেষ থিমেটিক সেশনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের এসডিজি বাস্তবায়নের মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পরিকল্পনা কমিশনের জেনারেল ইকোনোমিকস ডিভিশনের সদস্য শামসুল আলম ও পিকেএসএফ-এর মহাপরিচালক আব্দুল করিম।
ইত্তেফাক/এমআই