মিলছে মৃত্পাত্র তৈলপাত্র পোড়ামাটির বাটিসহ নানা নিদর্শন

বৈরাগীর ভিটায় প্রত্নতাত্ত্বিক খনন

আমিনুল ইসলাম হিরু, বগুড়া অফিস

মহাস্থানের বৈরাগীর ভিটা খননকালে একের পর এক উন্মোচিত হচ্ছে দেড় হাজার বছর আগের প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন। মধ্যে জানুয়ারি থেকে বৈরাগীর ভিটায় খনন কাজ শুরু করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিমের মাধ্যমে এই খনন কাজ পরিচালিত হচ্ছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানার নেতৃত্বে টিমের অন্য সদস্যরা হলেন, সহকারী পরিচালক মজিবর রহমান, সহকারী কাস্টডিয়ান মোহাম্মদ যায়দ, সহকারী কাস্টডিয়ান এসএম হাসনাত বিন ইসলাম, সিনিয়র ড্রাফ্সম্যানস আফজাল হোসেন মণ্ডল, সার্ভেয়ার মুর্শিদ কামাল ভূঁইয়া ও ফটোগ্রাফার আবুল কালাম আজাদ। 

এখন পর্যন্ত ১৩টি বর্গে স্বল্প পরিসরে খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খনন কাজ মার্চেই শেষ হচ্ছে। এসব বর্গে খননকালে পাওয়া গেছে পাল শাসনামলের নানা মূল্যবান প্রত্ন নিদর্শন। এর আগে পাশাপাশি তিনটি বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান পাওয়ার পর খননকালে এসব মন্দিরের সম্প্রসারিত স্থাপত্য নিদর্শন পাওয়া যায়।

ঐতিহাসিকদের মতে, এই বৈরাগীর ভিটাই ছিল গুপ্ত রাজত্বকালে পুন্ড্রুবর্ধন রাজ্যের মহারাজ বা গভর্নরের এবং স্বাধীন পাল সম্রাটদের রাজধানী। এসব নিদর্শন থেকে মহাস্থান গড়ের সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ অতীত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে খননকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে উত্সুক জনতা বৈরাগীর ভিটায় এসে ভিড় জমাচ্ছে। তারা এ সমস্ত ঐতিহাসিক ও প্রত্ন নিদর্শন দেখে সমৃদ্ধ অতীত সম্পর্কে জানতে পেরে বিমুগ্ধ এবং গর্বিত হচ্ছে। 

মহাস্থানগড় ইউনেস্কোর ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রতি বছর গড়ের বিভিন্ন এলাকায় খনন কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের যৌথ বিশেষজ্ঞদল ১৯৯৩ সাল থেকে মহাস্থানগড়ে খনন কাজ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগেও খনন কাজ করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

মহাস্থান জাদুঘরের সহকারী কাস্টডিয়ান এস এম হাসনাত বিন ইসলাম জানান, এবার বৈরাগীর ভিটা খননকালে স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি বেশকিছু  প্রত্নবস্তুও মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় চকচকে কালো মৃত্পাত্র, বিভিন্ন যুগের মৃত্পাত্রের ভগ্নাংশ, তৈলপাত্র, পোড়া মাটির বাটি, গুটিকা, বল, কালির দোয়াত ইত্যাদি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, পর্যায়ক্রমে মহাস্থানগড়ের অন্যান্য স্পটেও খনন কাজ পরিচালনা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।