উত্পাদন ব্যয় উঠছে না কৃষকের
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
পশ্চিমের জেলাগুলোতে বোরো ওঠার আগ মুহূর্তে ধানের দর পতনে চাষি অস্বস্তিতে পড়েছে। শুধু ধান নয়, নতুন ওঠা গম ও ভুট্টার দাম কমেছে। জেলাগুলো হচ্ছে, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও যশোর।
২০১৭ সালে বোরো ধান ওঠার পর ধানের দরপতন শুরু হয়। গত দুই বছর ধরে চাষি ধানের ভালো দাম পাচ্ছেন না। এতে তাদের ধান চাষে উত্পাদন খরচ উঠছে না। এখনো চাষির ঘরে প্রচুর ধান মজুদ আছে। তারা মজুদ ধান বাজারে ছাড়ছে। দাম পাচ্ছে না। এ অঞ্চলে ধানের হাটগুলোতে মোটা ধান স্বর্ণা, বিআর-১১, বিআর-৩৩, বিআর-৩৯ ও বিআর-৪৫, বিআর-৪৮ জাতের ধান প্রতি মণ (৪০ কেজি) ৬২০ টাকা থেকে ৬৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরু ধান বিনা-৭, বিআর-২৮, বিআর-৫০ জাতের ধান প্রতি মণ (৪০ কেজি) ৭২০ থেকে ৭২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসের শেষে নির্বাচনের আগে সব ধরনের ধানের দাম মণ প্রতি এখনকার তুলনায় একশ টাকা করে বেশি ছিল। তারপর আবার কমে যায়।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের চাষি মিজানুর রহমান জানান, ১০ বিঘাতে আমন চাষ করেছিলেন। ২০০ মণের বেশি ধান উত্পাদন হয়েছে। মোটা ধান ৬২০ টাকা এবং সরু ধান ৭৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। চাষে তার লোকসান হয়েছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, সব ধরনের ধানের দাম কম। এত চাষের খরচ উঠছে না।
ধানের দর পতনের সাথে সব ধরনের চালের দামও কমেছে। খুচরা মোটা চাল প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে ২৭ টাকা দরে বিক্রি চচ্ছে। বিনা-৭ চাল প্রতি কেজি ৩৪ টাকা ও বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে।
কৃষিবিদরা বলেন, মিনিকেট বলে বাংলাদেশে কোনো ধান নেই। অথচ লাখ লাখ টন চাল মিনিকেট বলে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। বি আর ২৮ ও বিনা-৭ চাল পালিশ করে মিনিকেট বলে চালানো হচ্ছে। ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক চাহিদার থাকায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বিপুল মুনাফা লুটছে।
কুষ্টিয়ার খাজা নগরের চালের বড় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ বলেন, চালের বাজার মন্দা চলছে। সব ধরনের চালের দর কমে গেছে। পাইকারি বাজারে স্বর্ণা ৫০ কেজির বস্তা ১২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সরু বিনা-৭ প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও বিআর-২৮ ও বিআর-৩৯ চাল ৩১ টাকা ৬০ পয়সা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ২ নম্বর মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৪ টাকা দরে।
নতুন গম ও ভুট্টা উঠছে। প্রতি মণ গম সাড়ে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর শুকনা ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬৩০ টাকা মণ দরে। গত বছরের চেয়ে প্রায় ১০০ টাকা কম দরে বিক্রি হচ্ছে।
১৫-২০ দিনের মধ্যে নতুন বোরো ধান বাজারে উঠতে শুরু করবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়—এবার পশ্চিমের ছয় জেলায় তিন লাখ ৮৩ হাজার ৫১৯ হেক্টরে বোরো, ২৫ হাজার ৭১২ হেক্টরে গম ও ৮৮ হাজার হেক্টরে ভুট্টা চাষ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক নির্মল কুমার দে ধান, গম ও ভুট্টার দাম কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তারা উত্পাদনের সাথে যুক্ত। বাজারের ওপর তাদের হাত নেই।