মেড ইন চায়না :এবার দূষণখেকো সবুজ শহর

খাদ্য, পোশাক, কিংবা প্রযুক্তিপণ্য থেকে খেলনা—এমন কোনো জিনিস নেই যাতে চীনারা নতুনত্ব আনেনি। ‘মেড ইন চায়না’ বিশ্বজুড়ে সস্তার অপর নাম। একই সাথে নির্ভরতারও প্রতীক। অদ্ভুত সব জিনিস তৈরীতে চীনাদের জুড়ি মেলা ভার। চীনাদের নতুনত্বের তালিকায় এবার যোগ হতে যাচ্ছে একটি শহর। তবে এই শহর গতানুগতিক ইট-কাঠ, ধুলোবালি, দূষণের শহর নয়। বরং এটি হবে ‘দূষণখেকো’ সবুজ নগরী—যেখানে দূষণ থাকবে না। বরং পরিবেশ থেকে দূষণ শোষণ করবে।

চীন অভিনব এই প্রকল্পটি তৈরী করতে যাচ্ছে লিউ ঝোউ শহরে। এর নাম হবে লিউ ঝোউ ফরেস্ট সিটি। ৩৪২ একর জায়গার উপর নির্মিতব্য এই শহরের ডিজাইন করেছে ইতালিয়ান ফার্ম স্টেফানো বোয়াটি আরকিটেটি। এই শহরটি পুরোপুরি হবে গাছপালা দিয়ে ঢাকা। এক কথায় বনের ভেতর বসবাস। অনেকটা পৌরাণিক কাহিনীর মুনি-ঋষিদের সেই তপোবনের মতো। গাছ পালার ফাঁকে ফাঁকে এই শহরেও থাকবে বিশাল বিশাল সুউচ্চ ভবন। তবে এগুলোর প্রতি তলায় তলায় থাকবে সবুজের সমারোহ। সব মিলিয়ে ১০ লাখের উপর ছোটবড় গাছ থাকবে এই শহরে। বাসিন্দাদের জন্য জঙ্গলের ভেতরেই থাকবে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুন্দর সুন্দর রাস্তাঘাট, ইন্টারনেট, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, অফিস ইত্যাদি। এখানকার সব স্থাপনাই তৈরী হবে জঙ্গলের সঙ্গে ‘ম্যাচিং’ করে। আধুনিক শহরের সঙ্গে দৃশ্যত এর কোনো মিল থাকবে না।

এর পরিকল্পনাকারীরা বলছেন—এই শহর দূষণ তো তৈরী করবেই না, উপরন্তু এ শহরের সবুজ গাছপালা বছরে অন্তত ১০ হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড এবং ৫৭ টন অন্যান্য প্রকারের দূষণকারী বস্তু শোষণ করবে। পাশাপাশি ৯০০ টন অক্সিজেন উত্পাদন করবে। কমিয়ে দেবে বাতাসের তাপমাত্রা। আর বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর আবাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেবে। মোট কথা, প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ তৈরী করে দেবে এই শহর। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, চীনের এই প্রকল্প সফলতা পেলে তা মানুষের রোগব্যাধি কমিয়ে সুস্থ্য সুন্দর জীবন যাপনের সুযোগ করে দেবে। অন্যান্য দেশের মানুষও এরকম ‘অরণ্য শহর’ তৈরী করতে আগ্রহী হবে।

ইত্তেফাক/নূহু