সাত খুনের ঘটনায় নাটের গুরু নূর হোসেন

 
তারেক সাঈদ, নূর হোসেনসহ সাত খুন মামলার সকল আসামিকে বিচারিক আদালতের দেয়া দণ্ড বহালের আর্জি জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। শুনানিতে তিনি বলেছেন, এই খুনের ঘটনার পরপরই বিষয়টি জুডিসিয়াল নোটিশে নেয় হাইকোর্ট। এরপরই শুরু হয় তদন্ত ও বিচার। এই ঘটনায় দোষীদের প্রকৃত সাজা না হলে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল তা বিফলে যাবে। সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের সমাপনী শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল হাইকোর্টে এসব কথা বলেন। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ শুনানি গ্রহণ করে। অ্যাটর্নি জেনারেলের শুনানির মধ্য দিয়ে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ হয়।
 
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই সাত খুন ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। খুনের ঘটনায় বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা প্রমাণ করে যে, যত বড় ক্ষমতাধরই হোক না কেন কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। তিনি বলেন, র‌্যাবের প্রতি জনগণের আস্থা ছিল। কিন্তু ওই খুনের ঘটনায় র্যাবের কিছু বিপথগামী কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়ায় আস্থার সংকট দেখা দেয়। শুধু র্যাবই নয়, এ ঘটনার নাটের গুরু হচ্ছে নূর হোসেন। ঘটনার পরই তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকায় সাজা হ্রাসে কোনো নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখানোর সুযোগ নেই। সেজন্য বিচারিক আদালত যে সাজা দিয়েছে তা বহাল রাখার মধ্য দিয়ে র্যাবের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোনো বিকল্প নেই। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।
 
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড ফতুল্লা থেকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় গত বছরের ১৬ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে বিচারিক আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্সের নথি ও কারাগার থেকে আসামিদের আপিল হাইকোর্টে আসার পর মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। গত ২২ মে থেকে পেপারবুক পাঠের মধ্য দিয়ে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়।
 
ইত্তেফাক/কেকে