অর্থনীতির উন্নয়নে শিল্প খাতের অবদান বাড়ছে

g রেজাউল করিম খোকন

 

দেশে প্রথমবারের মতো সপ্তাহব্যাপী জাতীয় শিল্প মেলা ২০১৯ অনুষ্ঠিত হলো সম্প্রতি। এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিল্পের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। দেশ বিদেশে বাজার সৃষ্টির জন্য উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আমাদের শিল্পকে বহুমুখী করতে হবে। শিল্পোদ্যোক্তাদের নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে দেশে এবং বিদেশে বাজার সৃষ্টি করতে হবে।

সপ্তাহব্যাপী এই জাতীয় শিল্প মেলায় সারা দেশের বড়, মাঝারি, ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, কুটির, হস্ত ও কারু এবং উচ্চ প্রযুক্তি খাতের প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। এ মেলার উদ্দেশ্য হলো, দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের উত্পাদিত পণ্য ও সেবা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার, প্রসার, বিক্রয় ও বাজার সম্প্রসারণ এবং ছোটবড় উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, যোগাযোগ ও সেতুবন্ধন তৈরিতে সহায়তা করা। বর্তমান সরকার শিল্প উন্নয়নে বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যা ইতোমধ্যে সুফল বয়ে আনতে শুরু করেছে।

সরকারের চলতি মেয়াদে জাতীয় আয়ে শিল্প খাতের অবদান ৪০ শতাংশ এবং এ খাতে শ্রমশক্তি ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে আমদানি পণ্যের নির্ভরশীলতা হ্রাস ও রপ্তানি বাড়াতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নারীদের শিল্পায়নের মূল ধারায় নিয়ে আসা, পুঁজিঘন শিল্প স্থাপনের পরিবর্তে শ্রমঘন শিল্প স্থাপন, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বেসরকারি খাতের বিকাশে নীতিসহায়তা দেওয়া হবে।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি এসব কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনার মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে লোকসানে থাকা সরকারি কারখানা লাভজনক করতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। চলতি মেয়াদে একটি ভিশন নির্ধারণ করে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। সরকারি কারখানা লাভজনক করতে এবং বন্ধ কারখানা চালুতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, গুণগতমানের লবণ উত্পাদন, চিনির বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারি চিনিকলের উত্পাদনের স্বাভাবিক ধারা বজায় রাখাও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব।

বিসিকের অধীনে ৭৬টি শিল্পনগরীতে শিল্প গড়ে তুলতে প্রায় ১০ হাজার শিল্প প্লট বেসরকারি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্লটের প্রায় অর্ধেকেই এখনো শিল্প চালু নেই। চলতি মেয়াদে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে অব্যবহূত প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে নতুনভাবে দেওয়া হবে। বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স, খুলনা নিউজ প্রিন্ট মিলস, খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস, ঢাকা লেদার কোম্পানি, বাংলাদেশ ইনসুরেটর স্যানিটারি ওয়্যার ফ্যাক্টরি, নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস (এনবিপিএমএল) চালুতে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রুগ্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে গড়ে তুলতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে শিল্প নির্ভরতা লাভ করেছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পের প্রসার বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়াও দেশে শিল্প খাতে বিস্তৃৃতি ঘটেছে ব্যাপকভাবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতা এখনো শিল্প কারখানা স্থাপনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বিদ্যুত্, গ্যাস, পানি সংযোগ, সড়ক যোগাযোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের এখনো নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ব্যাংক ঋণে সুদের হারও সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে আগ্রহী শিল্প উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলেও তাদেরকে পদে পদে নানা সমস্যার শিকার হতে হচ্ছে। তাই এসকল বাধা দূর করতে হবে।