প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড় কাটা রোধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রয়াজনীয় নির্দেশনা দান করেছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
তিনি বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রী পরিষদ কক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম কার্য অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ নির্দেশনা দেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, অবৈধভাবে নির্মিত ঘরবাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পাহাড়ে প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ঘটনা রোধ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এ জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় ভিজিলেন্স বাড়ানোর জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জনগোষ্ঠীর বাসোপযোগী পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ দিক নির্দেশনায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বনভূমির সম্প্রসারণ, বন ও বনজ সম্পদের উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, উদ্ভিদ শনাক্তকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ দূষণরোধ, জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকি মোকাবেলা, রাবার উৎপাদন এবং টেকসই পরিবেশ উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব জলবায়ু কুটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেয়া উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন, কালের বিবর্তনে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বনজ সম্পদের ওপর চাপ বেড়েই চলেছে। দেশে বর্তমানে বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৬ লাখ হেক্টর। দেশের মোট আয়তনের প্রায় শতকরা ১৭ দশমিক ৬২ ভাগ বনভূমি।
তিনি বলেন, এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে চলতি ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ শতকরা ২০ ভাগে উন্নীত করার লক্ষ্যে বনায়ন ও বন সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ জন্য বনভূমি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ১৯২৭ সনের বন আইনের ৪ ও ৬ ধারায় প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভূক্ত এমন সকল বনভূমিকে ২০ ধারায় সংরক্ষিত বন ঘোষণার প্রক্রিয়া গ্রহণের লক্ষ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে দ্রুত প্রস্তাব প্রেরণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
বনভূমির সংরক্ষণের স্বার্থে জেলা প্রশাসকদের নিয়ন্ত্রাধীন ১ নং খতিয়ানের বন শ্রেণিভুক্ত জমি লিজ বা বন্দোবস্ত না দেয়ার জন্যও তিনি জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩’ জারি করেছে, যা ১ জুলাই ২০১৪ হতে কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, উর্বর কৃষি জমির মাটির ব্যবহার হ্রাস, জ্বালানি কাঠের ব্যবহার বন্ধ, উন্নত পদ্ধতির ইটভাটা প্রচলনসহ যত্রতত্র ইটের ভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই আইন অনুযায়ী ইটের ভাটার লাইসেন্স প্রদান ও লাইসেন্স স্থগিত করাসহ প্রয়োজনবোধে ইটভাটা বন্ধ করার জরুরি আদেশ জারি করার ক্ষমতা জেলা প্রশাসকদের দেয়া হয়েছে। বাসস
ইত্তেফাক/ইউবি