উত্তর কোরিয়া সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে দাবানলের জেরে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এখন পর্যন্ত এই দাবানলে এক জনের প্রাণহানি হলেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় চার হাজার মানুষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় এই দাবানল মোকাবিলায় দমকলকর্মীদের সহায়তা করছে দেশটির হাজার হাজার সেনা সদস্য। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও এখনো জ্বলছে আশেপাশের বনাঞ্চল।
বৃহস্পতিবার রাতে সিউলের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় গাংওন প্রদেশের গোসেং এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়ে দাবানলের সূত্রপাত হয় বলে মনে করা হচ্ছে। তীব্র বাতাসের কারণে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে পার্বত্য অঞ্চলে। আগুনে পুড়ে গেছে ওই প্রদেশের শত শত ঘরবাড়ি। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় আটশো ইঞ্জিন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ওই এলাকায় সম্ভাব্য সব উপকরণ মোতায়েনের। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দিতে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ সেনা সদস্য, ৩২ টি হেলিকপ্টার ও ২৬ টি সামরিক অগ্নি নির্বাপণ গাড়ি পাঠানো হয়েছে। প্রাদেশিক গভর্নর চোই-মুন-সুন এক রেডিও সাক্ষাত্কারে বলেছেন, সৌভাগ্যক্রমে মূল আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তবে আশেপাশের এলাকা এখনও জ্বলছে। গভর্নর জানান, সোকচো অঞ্চলে এখনও আগুন জ্বলছে।
২০০৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় পশ্চিম সমুদ্রে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ফুটো হয়ে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়লে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।