ইনক্লুসিভ ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ ফান্ড

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে রবিবার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইনক্লুসিভ ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ফান্ড-২০১৭’ এর উদ্বোধন করা হয়। 
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। 
 
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ ফান্ড নতুন নতুন উদ্ভাবন করে শিক্ষা খাতে ব্যাপক হারে অবদান রাখবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এটুআই প্রোগ্রামের পরিচালক (ইনোভেশন) ও বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব মোস্তাফিজুর রহমান চ্যালেঞ্জ ফান্ড প্রতিযোগিতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চ্যালেঞ্জ ফান্ড নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।
 
প্রসঙ্গত, সকলের জন্য সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করতে ইনক্লুসিভ ইউনিভার্সিটি তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ইনক্লুসিভ ইউনিভার্সিটি হিসেবে ঘোষণা দেয়ার ভিশনকে সামনে রেখে বিদ্যমান চ্যলেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। তন্মধ্যে কারিগরী ভিত্তিক সমাধানের জন্য ৩টি চ্যালেঞ্জ নির্বাচন করে এটুআই প্রোগ্রাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই চ্যালেঞ্জ ফান্ড প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইনক্লুসিভ ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ফান্ড প্রতিযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত হলো।
 
এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য ক্লাস নোট এবং লেকচার অ্যাক্সিসেবল করা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত সকল শিক্ষাগত এবং প্রশাসনিক তথ্য ও বিজ্ঞপ্তি অ্যাক্সিসেবল করা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অবকাঠামো পরিবর্তন না করে বিভিন্ন ভবনে প্রবেশ অ্যাক্সিসেবল করা এই ৩টি চ্যালেঞ্জের উদ্ভাবনী সমাধান আহ্বান করা হয়েছে। উদ্ভাবনী সমাধানের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়ন উপযোগী সমাধান নির্বাচন করা হবে এবং সেটি প্রচলিত বা বিদ্যমান সমাধান থেকে আলাদা হতে হবে। http://www.challenge.gov.bd/inclusiveuniversity লিঙ্কে ভিজিট করে চ্যালেঞ্জ ফান্ডের আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং অনলাইনে সমাধান দাখিল করা যাচ্ছে। আবেদন জমাদানের শেষ তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। সারা দেশ থেকে যে কোনো প্রতিষ্ঠান/ কনসোর্টিয়াম আবেদন করতে পারবে এবং উদ্ভাবনী সমাধান পাইলটিং এর জন্য সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা প্রদান করা হবে।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ডিন ও চেয়ারম্যানবৃন্দ, কারিগরী বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, প্রতিবন্ধী শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেন্ট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 
ইত্তেফাক/ইউবি