চট্টগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে চরম অনিয়ম

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরীতে প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আগে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা শিক্ষকদের বদলি আদেশ না দিয়ে পরে আবেদন করা অনেককে বদলির আদেশ দিয়েছে অধিদফতর। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিবছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে বদলি হতে পারেন। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন এলাকায় শর্ত সাপেক্ষে বদলির সুযোগ থাকলেও সেটি কার্যত অসম্ভব ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ৪ মার্চ মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশন এলাকায় বদলির ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে। এতে করপোরেশন এলাকার বাইরে থেকে বদলি ইচ্ছুক শিক্ষকদের কোটা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এছাড়া নীতিমালায় বেসরকারি চাকরিজীবী স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এলাকায়ও বদলির সুযোগ রাখা হয়।

গত বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে চট্টগ্রামের ৩১ জন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেয়া হয়। গত ২৮ মার্চ অধিদফতরের পরিচালক (পলিসি এবং অপারেশন) খান মো. নুরুল আমিন ও সহকারী পরিচালক জালাল আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশটি প্রায় এক সপ্তাহ পর চট্টগ্রামে আসে এবং বদলিকৃত শিক্ষকদের তালিকা অধিদফতরের ওয়েবসাইটেও দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা ইত্তেফাককে জানান, নতুন নীতিমালার আলোকে বদলি হতে চাওয়া শিক্ষকদের জন্য আমরা শূন্যপদে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এরপর অধিদফতর থেকে কিভাবে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে সেটা জানি না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এই আদেশকে অনৈতিক দাবি করে একাধিক শিক্ষক ও তাদের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, যারা অধিদফতরের সঠিক নিয়ম মেনে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শূন্যপদের সুপারিশ নিয়ে গেছে, তারা এখনো কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অন্তত ৩০ জন শিক্ষক মহাপরিচালকের চাহিদা মতো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের শূন্যপদের সুপারিশ নিয়ে গেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র দুইজনকে বদলির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকি ২৯ জনকে তদবির এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলির আদেশ দিয়েছেন অধিদফতরের কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে অনেকে আবেদন করেছেন পরে এবং শূন্যপদও উল্লেখ করেননি। অথচ নিজের স্থায়ী ঠিকানায় বদলি হতে চেয়েও পারেননি কেউ কেউ।

এ বিষয়ে জানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এফ এম মঞ্জুর কাদির, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন ও অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদকে ফোন করা হলে তারা কেউই রিসিভ করেননি।