বাংলা বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে বরিশালের বাজারে ইলিশের মূল্য আকাশচুম্বী। অতি মুনাফার আশায় অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীরা বরিশালের নদীতে নতুন যুক্ত হওয়া ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে ইলিশ শিকার করছে। বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর নদীর হবিনগর থেকে মেহেন্দিগঞ্জের বামনীর চর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১৪ কিলোমিটার, মেহেন্দিগঞ্জের গজারিয়া নদীর হার্ডপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ দশমিক ২৭ কিলোমিটার, হিজলার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দিগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাহাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬৩ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মত্স্য অধিদপ্তরের গবেষণায় জানা গেছে, এ মৌসুমে এসব এলাকায় জাল ফেললে প্রজনন বিঘ্নিত হয়। ধরা পড়ে ছোট জাটকা সাইজের ইলিশ। ১ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৩০ জুন পর্যন্ত সকল প্রকার নদ-নদীতে ছোট সাইজের ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মৌসুম চললেও ছোট সাইজের ইলিশ নিধন করছে অসত্ জেলেরা। জেলেদের হাতে নিধনকৃত জাটকা ইলিশ পাচারকারীদের হাত ঘুরে বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। ইলিশের মণ লাখ টাকা অতিক্রম করায় এক শ্রেণির দালাল-ফড়িয়ারা ইলিশের সন্ধানে দক্ষিণাঞ্চলের মোকামগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় পাইকার ও আড়তদাররা মজুদ প্রক্রিয়ায় চড়া মূল্যে ইলিশ বিক্রি করছে। সৌখিন ক্রেতারাও তাজা ইলিশের স্বাদ পেতে ছুটছেন আড়ত ও পাইকারি বাজারে। নববর্ষের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ইলিশের দাম বাড়ছে। চৈত্র সংক্রান্তের দিন পর্যন্ত ইলিশের এ মূল্য বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মত্স্য আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। গতকাল পোর্ট রোডের মত্স্য আড়তগুলোতে এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হয় এক লাখ টাকার ওপরে। ৬শ থেকে ৯শ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিমণ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সামান্য পরিমাণ যা পাওয়া যাচ্ছে বড়ো সাইজ (দেড় কেজি) ওজনের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে দেড় লাখ টাকার ওপরে। ছোট সাইজের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দরে। বর্তমান বাজারে ছোট সাইজের ইলিশের উপস্থিতিই বেশি। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদ-নদী জাটকা শিকার ও বিক্রি করে বাড়তি লাভে ব্যস্ত সময় পার করছেন অসত্ জেলে ও ব্যবসায়ীরা।