১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল শুধু তাদেরেই নয়, যারা এর পেছনে ষড়যন্ত্র করেছিল তাদেরও বিচার হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে যারা সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন শুধু তাদের মাধ্যমেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়নি। এই হত্যাকাণ্ড দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের ফল।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘২১ আগস্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে ‘আগস্ট মাস বাঙালি জাতির শোকের মাস’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইতিহাসে সঠিক তথ্য সন্নিবেশিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্য জানানোর স্বার্থে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিয়াউর রহমানসহ জড়িতদের বিচার করতে হবে। এটিই হচ্ছে জাতির প্রত্যাশা।
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিষয়ে ড. হাছান বলেন, বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তারেক রহমানের পরিচালনায় ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের দায় শুধু তারেক রহমানের একার নয়, এর দায় বেগম খালেদা জিয়ার ওপরও বর্তায়। এ হত্যাকাণ্ডের দায় বেগম খালেদা জিয়া এড়াতে পারেন না। তিনি সেই দিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন। রাষ্ট্রযন্ত্র এই হত্যাকাণ্ডের সহায়তা করেছে। সুতরাং এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের আওতায় বেগম খালেদা জিয়াকেও আনতে হবে।
হাছান মাহমুদ বলেন, ২১ আগস্টে আইভি রহমানসহ ২২ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও দুই জন অজ্ঞাতসহ ২৪ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের ৫ শ নেতাকর্মী গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন। এ ছাড়াও ওই হামলায় আমি নিজেই আহত হয়েছিলাম। আমার শরীরে এখনো ৪০টি স্প্লিন্টার আছে। অনেকে বেঁচে আছেন, কিন্তু জীবনের তরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। অনেকেই আজকে জীবিত থেকেও মৃত। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার চলছে। আমি জানি না, কেন এত দেরি হচ্ছে এই বিচারকার্য সম্পন্ন করতে।
এ সময় আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, এ দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে যারা দূরে সরিয়ে দিচ্ছে সবাই একত্র হয়ে তা প্রতিরোধ করতে চাই। আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর চেতনার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন, সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল প্রমুখ।
ইত্তেফাক/রেজা