সুশীল সমাজের সঙ্গে ইসির সংলাপ

‘পানামা পেপার্সে যাঁদের নাম এসেছে তাদের কেউ যেন প্রার্থী হতে না পারে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘পানামা পেপারসে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের কেউ যেন প্রার্থী হতে না পারেন। ভবিষ্যতে যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী কোনো দল নিবন্ধন না পায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।’  ইসির সঙ্গে সংলাপে সোমবার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। 
 
তিনি বলেন, সংবিধানের ১১৮(৪) অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী হতে হবে।
 
সোমবার একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে ইসির আয়োজনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় যাতে সুশীল সমাজের ৩৪ প্রতিনিধি নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সেনা মোতায়েন, ‘না’ ভোট প্রবর্তন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দেওয়াসহ বেশ কিছু প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সক্রিয় হতে এবং আগামী সংসদ নির্বাচনকে ভয়মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক করতে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।
 
দিনব্যাপী সংলাপ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন, অধিকাংশ বক্তা বলেছেন সেনাবাহিনী মোতায়েন করা সঠিক হবে। ভোটার তালিকায় সংখ্যালঘুরা যাতে বাদ না পড়েন এবং তাঁরা ভোট দিতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার মুখে না পড়েন, সেদিকে খেয়াল রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন।
 
সংলাপে অংশ নেয়া সুশীল সমাজের অনেকে বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট, ভোটারসহ সবার মনে আতঙ্ক রয়েছে। আতঙ্ক দূর করতে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
 
উল্লেখ্য, বিদ্যমান আইনানুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ক্যাম্পে অবস্থান করবে, প্রয়োজনে তাদের ডাকা যাবে।
 
এদিকে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না ভোট থাকলে ২০০৯ সালে তা বাতিল করা হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি না ভোট জরুরি মনে না করলেও সোমবারের সংলাপে না ভোটের বিধান রাখার পক্ষে প্রস্তাব আসে। না ভোটের সমর্থনের যুক্তি হিসেবে সুশীল সমাজের সদস্যরা যুক্তি দেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পেশিশক্তি ও কালোটাকার উপর ভিত্তিতে বড় দলগুলো মনোনয়ন দিয়ে থাকে। এই মনোনয়নে যে ভোটারের অপছন্দ আছে সেটা বোঝানোর জন্যই না ভোটের প্রয়োজন।
 
 
সংলাপে অনেকে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার প্রস্তাব করেছেন। তাদের মতে সংসদ বহাল থাকলে বর্তমান সদস্যরা বিশেষ সুবিধা পাবেন ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বর্তমান সিইসিকে পূর্ববর্তী সিইসি কাজী রকিব উদ্দিনের তুলনায় বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। সংলাপে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। দু-একজন এর সরাসরি বিরোধিতা করেন। আর বিষয়টি নিয়ে ইসিকে কিছু না বলার পরামর্শ দেন কেউ কেউ।
 
সিইসি বলেন, ভুলভ্রান্তি হতে পারে, কিন্তু ইসি কঠোরভাবে নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করে। বর্তমান ইসি যে নির্বাচনগুলো করেছে, সেখানে খুব একটা অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটা আস্থা অর্জনের ‘ডেমোনেস্ট্রেশন’ হতে পারে।