নির্মাতা অনিমেষ আইচ। তার পরিচালিত ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ সিনেমাটি মুক্তি পাবে আগামী ৪ আগস্ট। এটি তার দ্বিতীয় সিনেমা। চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন দিক, বর্তমানে দেশীয় চলচ্চিত্রের অবস্থা ও নাটক নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে।
কেমন আছেন?
খুব টেনশনে আছি!
কী কারণে এত টেনশন?
আমার দ্বিতীয় সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে সামনের মাসের ৪ তারিখ। একটা সিনেমা মুক্তি দেওয়ার সময় তো টেনশন লেগে থাকাটা স্বাভাবিক। দর্শক সিনেমাটি কতটুকু গ্রহণ করবেন সেটা নিয়ে বেশ চিন্তিত।
‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ সিনেমাটি কয়টি হলে মুক্তি পাবে?
সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহে প্রায় ৪০টি হলে মুক্তি পাবে। আরও হল পেয়েছিলাম, কিন্তু আপাতত ৪০টি হলেই চলবে ভয়ঙ্কর সুন্দর। এরমধ্যে ঢাকার বড় বড় হলগুলোতে (মধুমিতা, বিলাসী, মধুমিতা, রাজমণি) মুক্তি পাবে এটি। দর্শক যদি চলচ্চিত্রটি দর্শকরা গ্রহণ করেন তাহলে দ্বিতীয় কিংবা তারপর সপ্তাহে হলের সংখ্যা বাড়াবো।
‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ নামটি রাখার কোনো উল্লেখযোগ্য কারণ আছে?
ছবিটির সকল ইনফরমেশন বহন করে নামটি। রোমান্টিক গল্প নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করছি। ভয়ঙ্কর সুন্দর প্রেমের একটি গল্প নিয়েই আসলে গড়ে উঠেছে ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ ছবির প্রেক্ষাপট। ছবিটির গল্পটা আসলে কতটা সুন্দর সেটা দর্শক না দেখলে বুঝবেন না। ভয়ঙ্কর সুন্দর নামটি কেন রাখা হয়েছে সেটা জানার জন্য হলেও ছবিটি দেখা উচিত। ছবিটি দেখলেই বুঝবেন কী কারণে এই সিনেমার নাম ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’।
চলচ্চিত্রটি দর্শক কেন দেখবে?
চলচ্চিত্রটির গল্প এতটাই ইউনিক যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। এতদম নতুন গল্প। এমন গল্পে আর কোনো সিনেমা এখনও নির্মিত হয়নি। সিনেমাটি দেখে দর্শকরা কল্পনাও করতে পারবেন না যে, আসলে এত সুন্দর গল্প হয়। তাছাড়া আমি মনে করি সিনেমাটিতে পরমব্রত আর ভাবনা এত সুন্দর অভিনয় করেছেন যে, তা দেখার মতো। পার্সোনালি আমিই তাদের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছি। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রটি দেখলে দর্শকরা ঠকবেন না। সিনেমা বানিয়ে দর্শকদের ঠকাতে চাই না।
বর্তমানে দেশীয় চলচ্চিত্র এক ধরনের অস্থিরতা মধ্যে আছে। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
এটা কিন্তু খারাপ না। এই অস্থিরতার মধ্যেই আমরা নতুন কিছু পাবো, নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করবো। যেটি আমাদের সিনেমার জন্য ভালো। এটি একটি টার্ন। আমাদের সিনেমা ভালো পথেই ঝুঁকছে। গল্প চুরি না করে এখন সবাই ক্রিয়েটিভ কিছু করার চেষ্টা করছে। কপি পেস্ট মুক্ত ভালো সিনেমা দেখবেন দর্শক। আমি এই অস্থিরতাকে সাধুবাদ জানাই। তবে নবীন অনেকেই ভাবছেন সিনেমা বানাতে দিলেই আপনি ক্রুফো বা সত্যজিৎকে হেলিয়ে দিতে পারবেন। ভাবনাটা সম্পূর্ণ ভুল। এদেশের সিনেমায় ক্রিয়েটিভিটির চেয়ে বেশি হিসেব কষার খেলা চলে।
কয়েকমাস ধরেই তো নাটক নির্মাণ কমিয়ে দিয়েছেন। ঈদ নিয়ে কিছু ভাবছেন?
ভয়ঙ্কর সুন্দরের জন্যই এখন আর নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণ করছি না। একটি সিনেমা নির্মাণের পর আসলে অন্য কাজে হাত দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই নাকটের কাজ অফ রেখেছি। আর সামনের ঈদেও কোনো নাটক নির্মাণ করছি না। ছবির রেশটা কাটুক তারপর ধীরে সুস্থে নাটক নির্মাণ করবো।
ইত্তেফাক/আনিসুর