ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার ক্লাস বন্ধ থাকবে। তবে পরীক্ষা চলবে। বুধবারও ক্লাস বন্ধ ছিল।
বুধবার বেলা পৌনে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ সাদ আন্দালিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধ ও বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস হবে না বলে জানান।
তবে বুধবারও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও কোনো সাড়া না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ও দুই নম্বর ভবনে প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেন। তারা শিক্ষকদের বের হওয়ার সুযোগ দিলেও কর্মকর্তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে থাকলে শিক্ষকরা তাদের ভেতরে নিয়ে আসেন। পরে বিকেলে শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুই পাশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ম্যাথমেথিক্স অ্যান্ড নাচারাল সায়েন্সস এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম ইউসূফ হায়দার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে নিয়ে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফসান চৌধুরী, বিশ্বদ্যালয়ের এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তাজদিন হাসান এবং ছাত্রদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি।
এই কমিটি সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সবার সঙ্গে নিরপেক্ষ একটি স্থানে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করবেন বলে জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কমিটির কাজ হবে ৩০ জুলাই সংঘটিত ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও সত্য উদঘাটন, শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদের চুক্তি শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক নীতিমালা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি-না, তা নিরুপণ করা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পর কমিটি আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ প্রদান করবে। সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নীতিমালা ও নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে কমিটি তাও পেশ করবে। বৃহস্পতিবার থেকে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম চলবে। তবে এ কমিটিও প্রত্যখ্যান করেছে আন্দোলকারী শিক্ষকরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষাথীদের বক্তব্য, আমাদের প্রস্তাব ছিল প্রশাসন মনোনীত একজন শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের পছন্দের একজন শিক্ষক, প্রক্টর, আইন বিভাগের একজন অ্যালামনাই থাকবেন আর স্টুডেন্টদের পক্ষ থেকে কামরুন্নাহার ডানা থাকবেন। কিন্তু সেভাবে করা হয়নি। এ কারণে এই প্রস্তাব আমরা মানছি না। তাই আন্দোলন চলবে।
ইত্তেফাক/ইউবি