দখল-দূষণ ও ভরাটে মৃতপ্রায় গাজীখালী নদী

জেলার সাটুরিয়া উপজেলার গাজীখালী নদী ছিল একসময় প্রমত্তা স্রোতস্বিনী। চলতো বড় বড় নৌযান। নৌ-সুবিধার কারণেই এর তীরে গড়ে ওঠে হাটবাজার ও নানা প্রতিষ্ঠান। সাটুরিয়ায় হাটও বসে এ নদীকে ঘিরে। শত শত নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমার একসময় নোঙর করতো এ নদীর সাটুরিয়া ঘাটে। এখন নদীটি মরতে বসেছে। নদীটির সংযোগ মুখ পলিতে ভরে গেছে। বর্ষায়ও পানি আসে না অনেক বছর। দখল-দূষণ ও ভরাটে গাজীখালী নদীটি এখন মৃতপ্রায়। এর অবস্থা উন্নয়নেও কারও ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। গোপালপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে গাজীখালী নদীর উত্পত্তি। নদীটি সাটুরিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ধামরাই উপজেলার বাথুলী হয়ে পুনরায় ধলেশ্বরীতে মিশেছে। এ নদীটি ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার অন্যতম প্রধান নদী।

সাটুরিয়ার ব্যবসায়ীরা বলেন, এ উপজেলার উত্পন্ন পণ্য নৌপথেই দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে পাঠানো হতো। একইভাবে আনাও হতো এপথ দিয়ে। ২০০৪ সালে বন্যার পর এ নদীতে কোনো নৌযান চলতে দেখা যায়নি। হাটের দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকশ নৌকা ও  ট্রলার ভিড়তো এ গাজীখালী নদীর তীরে। এখন ২০-২২ বছর এ নদী দিয়ে নৌকাসহ কোনো নৌযান চলে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধলেশ্বরীর শাখা থেকে গোপালপুর থেকে শুরু হয়ে সাটুরিয়া পর্যন্ত ৮-১০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটি দখল হতে হতে খালে পরিণত হয়েছে। নদী তীর দখল করে উঠেছে শত শত পাকা বাড়ি। সাটুরিয়া হাট ও হাসপাতাল এলাকায় শতাধিক বাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে নদী দখল করে। হরগজের একাধিক স্থানে নদীর তলদেশ ও গোপালপুরে সংযোগমুখ মাটিতে ভরে গেছে। সংযোগ মুখ উঁচু হওয়ায় গাজীখালী নদীতে পানি প্রবেশে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করলে কয়েক বছর পর বিলীন হয়ে যেতে পারে গাজীখালী নদী।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বসির উদ্দিন ঠান্ডু বলেন, ‘এলাকায় অনেক উন্নয়নের কাজ হলেও নদী দখল রোধ ও খননকাজ কেন হচ্ছে না তা আমি বুঝতে পারছি না। গাজীখালি নদীটি তাই মরতে বসেছে।’ সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরীন পারভীন বলেন, গাজীখালী নদী খননকাজের জন্য একটি প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নৌ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।