আইন সচিবের নিয়োগ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

 
আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব হিসেবে আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের নিয়োগদান কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দিয়েছে আদালত।
 
বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই রুল জারি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও রিটকারী পক্ষে অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানি করেন।
 
৬ আগস্ট আইন ও বিচার বিভাগের সচিব হিসেবে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান জহিরুল হক। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে অবসর উত্তর ছুটি বাতিল করে তাকে ওই পদে নিয়োগ দেয় সরকার। নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান। আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংস্থাপন সচিব, অর্থ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবকে (প্রশাসন) বিবাদী করা হয়েছে।
 
শুনানিতে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, সচিব হিসেবে জহিরুল হককে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় ৬ আগস্ট। আর তিনি অবসরে যান ৮ আগস্ট। যখন নিয়োগ দেওয়া হয় তখন তিনি জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্য ছিলেন। সদস্য থাকাবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ না নিয়ে তাকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যে নীতিমালা রয়েছে এ ক্ষেত্রে তারও লংঘন হয়েছে। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ এবং সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এ নিয়োগ দিতে হবে। এছাড়া কাজী হাবিবুল আউয়াল বনাম আফতাবউদ্দিন মামলার রায়ে বলা হয়েছে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্য ব্যতীত ওই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ফলে অবসরে যাওয়ায় তিনি ওই পদে নিয়োগ পেতে পারেন না।
 
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, জহিরুল হক জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্য হলেও অবসরে গেছেন সরকারি কর্মচারি হিসেবে। আর তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পাবলিক সার্ভিস রিটায়ারমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না- এটা আইন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায়ও বলা হয়নি। তিনি বলেন, কাজী হাবিবুল আউয়াল ছিলেন ড্রাফটিং উইংয়ের সদস্য। তাকে যখন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব করা হয়েছিল তখন সেটি চ্যালেঞ্জ করা হয়। ওই মামলার রায়ে বলা হলো যে ড্রাফটিং উইংয়ের সদস্য হওয়ায় তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া বেআইনি। কিন্তু জহিরুল হক তো জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্য। ফলে ওই রায় তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
 
অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, অবসর উত্তর ছুটি বাতিল করে জহিরুলকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে পরামর্শের যে বিষয়টি রয়েছে সেটি হচ্ছে সার্ভিসের কোনো সদস্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গেলে সে ক্ষেত্রে এটির প্রয়োজন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর