বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় হয়েছে, সেই রায়ের আপিলে একটি পয়েন্টে সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছিল। সেটা হলো সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে কিনা? কিন্তু দু:খের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি সেই ইস্যু বাদ দিয়ে কিছু অপশক্তি ষড়যন্ত্র করছে। কারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত একে একে তাদের মুখোশ আমরা জাতির কাছে উম্মোচিত করবো। তিনি বলেন, আমরা জানি এই (রায়) ড্রাফট কোথা থেকে এসেছে। একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক এই ড্রাফট করে দিয়েছে। আমরা সেটার নিন্দা জানাই।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে আসা অপ্রাসঙ্গিক ও অসাংবিধানিক বক্তব্যে সংক্ষুদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে গতকাল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ব্যারিস্টার তাপস এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, একটি কথা পরিষ্কার ষড়যন্ত্র ছিল, ষড়যন্ত্র আছে, ষড়যন্ত্র চলবে। কিন্ত এটা ভেদ করে আমরা এগিয়ে যাব। সুপ্রিম কোর্ট পবিত্র অঙ্গন। এখানে রাজনৈতিক মঞ্চ করতে দেয়া হবে না। যদি করেন তাহলে তা প্রতিহত করার ক্ষমতা আমাদের আছে। একক ব্যক্তির নেতৃত্বে দেশ ও জাতি গঠন হয়নি এ ধরনের পর্যবেক্ষণকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রায়ের পর্যবেক্ষণে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা অবকাশের পূর্বেই স্বত:প্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহারের আহবান জানাচ্ছি। কারণ রায়ে জাতীয় সংসদ, নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় নেতৃত্বকে অবমাননা করে বক্তব্য রাখা হয়েছে যা অপ্রাসঙ্গিক। কোন অবস্থাতেই বিচার বিভাগ যা জনগনের শেষ আশ্রয় স্থল তাকে বিতর্কিত করতে চাই না। এর ফসল কেউ ভোগ করুক এটাও চাই না। তিনি বলেন, এ রায়ের পর বিএনপি মিষ্টি খাওয়াচ্ছে, মিছিল বের করছে - এটা কিসের লক্ষণ? এটা তো পাকিস্তান না, যে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেবে আর সেনাবাহিনী এসে কাউকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে-এই দিবা স্বপ্ন দেখবেন না।
বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার বলেন, রায়ে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলন সম্পর্কে যে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা হয়েছে সে কারণে এই রায় থাকার আর কোন সুযোগ নাই। আমি অনুরোধ জানাই অনতিবিলম্বে স্বত:প্রণোদিত হয়ে রায় বাতিল করে প্রয়োজনে নতুন রায় লিখতে হবে। যে রায় হবে জনগণের।
আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, সংসদ সার্বভৌম। সংসদকে হেয় করে আপনি (প্রধান বিচারপতি) কি বোঝাতে চেয়েছেন তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। মার্শাল ল’কে একদিকে বৈধ বলবেন আর গণতান্ত্রিক সংসদের প্রতিষ্ঠিত আইনকে বলবেন অবৈধ এ বিষয়গুলো জাতি বুঝতে পারছে না। আমাদের পরিস্কার কথা এই বাংলাদেশে চোরাগলি দিয়ে ক্ষমতায় আসার পথ আর কারো জন্য নাই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন কেরি বা বান কি মুনের টেলিফোনকে পাত্তা দেন নাই। আর বাংলাদেশের খুচরা ‘খাচরা’ যদি কোন স্বপ্ন দেখে থাকেন যে শেখ হাসিনাকে বিপদে ফেলে রাজনৈতিক মাঠে পানি ঘোলা করে নতুন কিছু অর্জন করার চেষ্টা করবেন তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন।
ব্যারিস্টার তাপস বলেন, আপনারা জানেন যখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংবিধান এবং গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে আইনজীবী সমাজ সব সময় জেগে উঠেছে এবং রুখে দাঁড়িয়েছে। আজকে সেই ষড়যন্ত্র দানা বেধেছে। তাই আজকে আইনজীবী সমাজ ক্ষুব্ধ এবং তাই এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আমাদের এই প্রতিবাদ সমাবেশ চলবেই। তিনি বলেন, রায়ে অপ্রাসঙ্গিক, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক যে বক্তব্য লেখা হয়েছে ছয়জন বিচারপতি সেটার সঙ্গে একমত পোষণ না করে বিরত থেকেছেন। আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই এবং একইসঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যগুলো অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী মাহবুব আলী এমপি, নূরুল ইসলাম সুজন এমপি, এএম আমিনউদ্দিন, লায়েকুজ্জামান মোল্লা, সানজীদা খানম এমপি, ফজিলাতুননেচ্ছা বাপ্পী এমপি, আজহারউল্লাহ ভূইয়া প্রমুখ।
ইত্তেফাক/নূহু