‘আমার বাবা-দাদারাও বাঁশ দিয়ে গৃহ নির্মাণ করতেন’

ঠা ট্টা ত্ কা র

 

—জনৈক ভবন মালিক

ঠাট্টা :আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আপনি নাকি বিল্ডিং কোড মানেননি?

ভবন মালিক :বিল্ডিং কোড না মানলে কীভাবে বিল্ডিং বানালাম? যদি ফিল্ডিং কোড মানতাম তাহলে ক্রিকেট মাঠে ফিল্ডিং করতাম, এত সুন্দর বিল্ডিং তো আর হতো না!

ঠাট্টা :আপনার বিল্ডিংয়ে রডের পরিবর্তে নাকি বাঁশ দেয়া হয়েছে?

ভবন মালিক :কথা সত্য। আমি হলাম প্রকৃতিপ্রেমী, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বাঁশ ব্যবহার করি কারণ এটা হলো প্রাকৃতিক এবং পরিবেশবান্ধব। আমার বাবা দাদারাও বাঁশ দিয়ে গৃহনির্মাণ করতেন। এটা অনেক টেকসই এবং মজবুত হয়।

ঠাট্টা :তাহলে বালির পরিবর্তে মাটি দিয়েছেন কেন?

ভবনমালিক :আমরা মাটির মানুষ, মাটিতে থাকব। এতে তো সমস্যার কিছু দেখছি না!

ঠাট্টা :আপনার নাকি ছয়তলার অনুমতি থাকলেও নয়তলা করেছেন?

ভবনমালিক :জি, রাজউক ছয়তলার অনুমতি দিয়ে তাদের কাজ করেছে আর আমি বাকি তিনতলার অনুমতি দিয়ে আমার নিজের কাজ করেছি। সবমিলিয়ে নয়তলা হয়েছে। অন্যরা নয়-ছয় করতে পারে, আমি ছয়কে নয় করতে পারি না!

ঠাট্টা :আপনার বিল্ডিংয়ে নাকি ইমার্জেন্সি এক্সিটের ব্যবস্থা নেই?

ভবনমালিক :ইমার্জেন্সির কী দরকার, লিফট দিয়ে সরাসরি শান্তিতে নামবে, এতে কষ্ট কম হবে, সময়ও বাঁচবে।

ঠাট্টা :যদি আগুন লাগে?

ভবনমালিক :আগুন লাগলে পানি মারবে। বাথরুমে পানির কি অভাব?

ঠাট্টা :যদি কোনো কারণে আগুন লাগার সময়ে পানি না থাকে?

ভবনমালিক :কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজনে আমি প্রতি তলায় একটি করে পুকুর কেটে দেব।

ঠাট্টা :বিল্ডিংয়ের ভিতরে পুকুর কাটবেন কী করে?

ভবনমালিক :পুকুর না হলে প্রতিতলায় একটি করে সুইমিংপুল বানাব, আর সেটা সম্ভব না হলে ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে একটি করে ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে দেব। এটা আমার জন্য কোনো বিষয়ই না।

সাক্ষাত্কার মুহা. তাজুল ইসলাম