পান্তা ভাতে পাওনা শোধ

তানভীর আহাম্মেদ

 

বৈশাখের প্রথম দিন। দিনটি যেভাবেই হোক পকেটে ‘মানি ইন’ টার্গেট নিলেন টিকলু ভাই। কারণ ছোট থেকেই শুনেছেন কেউ বৈশাখের প্রথম দিন যা করে, পুরো বছরই নাকি তাই করে।

তো ‘মানি ইন’-এর একটাই পন্থা, তা হচ্ছে উত্তর পাড়ার রতনদার কাছ থেকে পাওনা আদায়। বেচারা তিন মাস আগে ১ হাজার টাকা ধার নিয়েছে, এখনো আজ না কাল বলে বলে ঘুরাচ্ছে। আজ যে করেই হোক টাকা নিতেই হবে, প্রয়োজনে কিল-ঘুষি দিয়ে হলেও।

সকাল সকাল রতনদার বাড়িতে হাজির টিকলু ভাই। বেচারা রতন আজও টিকলু ভাইকে ঘুরিয়ে দিল। বেতন পায়নি, হাত খালি।

চিন্তা করল মারপিট পাকাতে হবে। আবার ভাবলেন যদি উল্টো কিল খেয়ে বসেন তাহলে সারাবছর খেতে হবে।

এরপর টিকলু ভাই রেগে গিয়ে বললেন, ‘কী আছে দিয়ে দে। টাকার বদলে সোনা গয়না, মোবাইল দে।’

‘ভাই আমি তো গরিব মানুষ, ডাল ভাত ছাড়া এই ব্যাচেলরের ঘরে কিছু নাই, আর ফোন আছে তাও টাচ ভাঙা। নেবেন? দিয়ে দিই? এই যে নিয়ে যান।’

মনে মনে টিকলু ভাই ভাবলেন টাচ ভাঙা ফোন নিলে লাভ হবে না। এরপর ভাবনায় পড়লেন, কী করা যায়। ‘মানি ইন’ আজ করতেই হবে। অনেকক্ষণ ভাবলেন তিনি । শেষে আইডিয়াও বের করলেন একটা।

—কাল রাতে রান্না করেছিলি?

—হ্যাঁ ভাই। আমরা তো ফ্ল্যাটে ৫ জন থাকি। সবাই কাল বাড়ি চলে গেছে। আমিই রয়ে গেছি। তাই সব ভাত পড়ে আছে। খাবেন নাকি, দেব?

—না, টাকার বদলে ভাত দে।

—ভাত নিয়ে কী করবেন?

—কাজ আছে। দে।

পরে রতনদার ভাতের পাতিল নিয়ে চলে যায় টিকলু। সাথে বাজার থেকে কাল কেনা ইলিশটাও মায়ের থেকে নিয়ে নেয়।

এরপর ভাতে পানি দিয়ে আর ইলিশ ভাজা নিয়ে বসে পড়েন রাস্তায়। পাতিলের ভাত ৮ প্ল্যাট হয়। সাথে ইলিশ ভাজা। বিক্রি করে প্রায় ২০০০ টাকার মতো ইনকাম করেন টিকলু ভাই।

টাকার আদায়ের সঙ্গে ইলিশের দামটাও উঠে টিকলু ভাইয়ের।