জন্ম :০৮ জানুয়ারি, ১৯৪৫
মৃত্যু :০৬ এপ্রিল, ২০১৯
বিনোদন রিপোর্ট
অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সারাজীবন যে মানুষটি বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের হাসিয়েছেন, সেই মানুষটিই সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বলা হচ্ছে অভিনেতা টেলি সামাদের কথা। গতকাল দুপুর ২টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। ৫ এপ্রিল রাত ১টার দিকে টেলি সামাদকে এই হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়। ১৯৭৩ সালে নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ‘কার বৌ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু হয় তার। পরবর্তীকালে ‘পায়ে চলার পথ’ চলচ্চিত্রের মধ্যদিয়ে জনপ্রিয়তা পান এই অভিনেত্রী। ক্যারিয়ারে শুধু অভিনয় নয়, ৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে তিনি গানও গেয়েছেন। প্রায় ছয় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
শেষবার ২০১৫ সালে ‘জিরো ডিগ্রী’ চলচ্চিত্রে দেখা যায় তাকে।
গুণী এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকাহত শোবিজ অঙ্গন। ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র একসঙ্গে করেছেন চিত্রনায়ক ফারুক ও টেলি সামাদ। ব্যক্তিগত জীবনেও ভালো বন্ধু ছিলেন তারা। টেলি সামাদ প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, ‘চলচ্চিত্র অঙ্গনের আমার যে কজন বন্ধু রয়েছেন, তার মধ্যে টেলি সামাদ আমার প্রাণের বন্ধু। এরমধ্যে আমাদের সিনেমার অনেক গুণী মানুষকে হারিয়েছি। এবার টেলি সামাদও চলে গেলেন। দীর্ঘসময়ের স্মৃতি তার সঙ্গে। খুব কাছ থেকে আমি এই গুণী মানুষটিকে দেখেছি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। আমার বন্ধু যেন ভালো থাকেন।’ চিত্রনায়ক রিয়াজ টেলি সামাদকে নিয়ে বলেন, ‘আমরা যেই মানুষটিকে হারিয়েছি, তার শূন্যস্থান কেউ পূরণ করার নেই। টেলি সামাদ শুধু গুণী অভিনেতা ছিলেন না, তিনি বেশ ভালো গান করতেন ও ছবি আঁকতেন। আপাদ মস্তক শিল্পী বলতে যা বোঝায় তাই ছিলেন তিনি। তিনি আমাদের আইকন ছিলেন। তার সঙ্গে যে কয়টা সিনেমায় অভিনয় করেছি। প্রত্যেকটা ছবিতেই তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’ অভিনেতা মিশা সওদাগর বলেন, ‘কিছু সংবাদ হঠাত্ করে এসে সবকিছু পাল্টে দেয়। টেলি সামাদের চলে যাওয়ার সংবাদটিও তেমন। জীবনের শেষ দিকে বেশকিছু আক্ষেপ ছিল তার। তার শেষ জীবনে আমরা তাকে মূল্যায়নটা হয়তো সেভাবে করতে পারিনি। গুণী একজন মানুষকে হারিয়েছি আমরা। যিনি একাধারে অভিনয়, গান ও ছবি আঁকতে পারতেন। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও শুধু মানুষকে হাসানোর বিষয়টি নিজের দায়িত্বের মতো পালন করেছেন। অনেক দোয়া তার জন্য। ওপারে যেন আমাদের ভালোবাসার মানুষটি ভালো থাকে।’