সিদ্দিকুরকে ছাড়িয়ে জামাল

বঙ্গবন্ধু ওপেন গলফ

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

সংবাদ সম্মেলনে কথাই বলতে চাইছিলেন না গলফার সিদ্দিকুর রহমান। নিজের পারফরম্যান্সের উপর খুবই ক্ষুব্দ। চারদিনের খেলায় প্রথম তিনদিনে মোটামুটি পারফরম্যান্স করে আসছিলেন সিদ্দিকুর। কিন্তু গতকাল শেষ দিনে এসে খুবই বাজে পারফরম্যান্স করলেন। শেষ দিনটা যদি একটু ভালো করা যেত তাহলে মুখ রক্ষা করা যেত। সিদ্দিকুরের শুভকামনা করেন যারা তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন নিজেই। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান ট্যুরে বাংলাদেশ ওপেন বঙ্গবন্ধু গলফে সিদ্দিকুর ১২তম স্থানে এসেছেন। ১০ম স্থানে জামাল হোসেন মোল্লা।

ঢাকায় কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের কোর্সে বঙ্গবন্ধু ওপেন গলফের পঞ্চম আসরের শেষ দিনে উত্সুক গলফ ভক্ত গিয়েছিলেন খেলা দেখতে। গলফারদের খেলা দেখেছেন পেছনে পেছনে হেঁটে। সিদ্দিকুর জামালদের শটগুলো উপভোগ করছিলেন। বিপদ ঘটল সিদ্দিকুরের বেলায়। তিনটি শট নষ্ট হয়েছে। গাছে লেগেছে। ঘাসে আটকে গিয়েছে। এভাবে মূলব্যান তিনটি শট সিদ্দিকুরের হতাশা ডেকে আনে। সিদ্দিকুর বলছিলেন আমার ব্যাডলাক। তিনটা বল গাছে আটকে গেছে। আমি ভালো শট করেছি। যেটা জায়গায় গিয়ে পড়ার কথা। ১১০ গজের মধ্যে থেকেই এই শট নষ্ট হবে আমি ভাবিনি। সব মিলিয়ে বলব আমার ব্যাডলাক। তা ছাড়া আমিতো জেতার জন্য খেলেনি। প্রথম রাউন্ডে যদি বড় ব্যবধান না হতো তাহলে একটা কথা। যদিও আপনাদের (দর্শক) প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। তারপরও বলব আমি হতাশ না।’ এশিয়ান ট্যুরের গত আসরে সিদ্দিকুর ২৬ নম্বরে ছিলেন।

সিদ্দিকুর রহমানকে ছাড়িয়ে গেছেন জামাল মোল্লা। এই জামাল সিদ্দিকুরের চেয়ে একটু বেশি সাহসী কথা বললেন, ‘আমি জেতার জন্য খেলেছিলাম। প্রথম রাউন্ড খারাপ হলে দ্বিতীয় রাউন্ড ভালো ছিল।’ জামালের আফসোস হচ্ছে নিজের কোর্সে ভালো করতে পারিনি।

দেশের মাটিতে খেলা হলেও চাপ অনুভব করেন জামাল। বলছিলেন একটা শট খারাপ হলে মন খারাপ হয়ে যায়, আমাদের জন্য এটা খুবই খারাপ।’ করণীয় কি? জামাল বললেন, ‘মেডিটেশন দরকার। আমাদের বিদেশি কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ দরকার।’ জামালের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে একই কথা বলেছেন সিদ্দিকুর রহমান। আমাদের মানসিক ট্রেনিং দরকার। বিশ্বমানের খেলা খেলতে হলে প্রস্তুতিটাও ভালো হওয়া দরকার।’ 

ট্রফিটা বাবার হাতে তুলে দেব

থাই গলফার স্যাডম কেওয়াকাঞ্জানা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও তার মুখে হাসি নেই। খুবই লাজুক স্বভাবের ছেলে কেওয়াকাঞ্জানা। এতো আস্তে কথা বলেন কাছে দাঁড়িয়েও শোনা যায় না। ২০ বছরের এই তরুণ এবারই প্রথম কোনো পেশাদার গলফে এসে চ্যাম্পিয়ন হলেন। চার বছর আগে ঢাকার কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে খেলতে এসেছিলেন। পরিচিতি কোর্স হলেও বলছিলেন চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা তার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। কাল বিকালে হঠাত্ করে কেওয়াকাঞ্জানার অবস্থান একধাপ নিচে, লিডার বোর্ডে ভারতীয় গলফার এক নম্বরে উঠে আসেন। কিন্তু সেটি খুব বেশি সময় রাখতে পারেনি তিনি।

আবারো এক নম্বরে উঠেন কেওয়াকাঞ্জানা। সাড়ে তিন লাখ ডলারের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন কেওয়াকাঞ্জানা পেয়েছেন ৬৩ হাজার ডলার। ট্রফি পাশে সংবাদ সম্মেলনে চ্যাম্পিয়ন গলফার বললেন, ‘আমার বাবা আমার শিক্ষক। এই ট্রফিটা বাবার হাতে তুলে দিতে চাই।’