পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে কারো জন্য আলাদা অধিকার দেয়া হয়নি। সকলের জন্য সমান অধিকার স্থাপন করা হয়েছে। কেউ অধিকার বঞ্চিত হলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায় করতে হবে।
শুক্রবার শ্রীকৃষ্ণাষ্টমী তিথি উদযাপন-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন।
‘শ্রীকৃষ্ণের ধর্ম ও সমাজ বিপ্লব’ শিরোনামে আয়োজিত আলোচনা সভায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, কোন ধর্মেই মানুষের ক্ষতি করার কথা বলেনি। সব ধর্মেই ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টিকর্তা মানুষকে তৈরি করেছেন। একটি সৌহার্দপূর্ণ ও ভাতৃত্বপূর্ণ সমাজ নির্মাণে মানুষ কাজ করবে বলে আমরা আশা করি।
তিনি বলেন, বৈষম্য, বিবেধ এবং হিংসার কথা কোন ধর্মেই বলা হয়নি। কিন্তু বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং প্রতিযোগিতার কারণে আমরা নানা ধরনের হিংসা বিদ্বেষ ছড়াই। পাকিস্তান আমলে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখনো কেউ কেউ তা করছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এমন একটি দেশ পেয়েছি যেখানে আমরা সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করতে চাই।
নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, স্কুলজীবনে আমরা দুর্গাপূজা দেখতে গিয়েছি, কালীপূজাও দেখতে গিয়েছি। কিন্তু এখন নানা বৈশ্বিক স্বার্থ দ্বারা তাড়িত হওয়ায় সেটা হয়না বললেই চলে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ অধিকার আদায় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস বলেন, শ্রীকৃষ্ণ শান্তির পক্ষে ছিলেন। বর্তমান সরকার মনে করে যার যার ধর্ম সে পালন করবে। এখানে সরকার কোন হস্তক্ষেপ করবে না। এক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ হবে আমাদের পাথেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি ধর্ম বিভিাগের চেয়ারম্যান ড. ফাদার তপন ডি রোজারিও বলেন, মানুষকে ভালোবাসা মানেই ঈশ্বরকে ভালোবাসা। এক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ এবং যিশুর মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি