রাজ্জাক ভাইকে রান্না করে আর খাওয়ানো হলো না: ববিতা

 
এই পরিস্থিতে আসলে কিভাবে তাকে নিয়ে বলবো জানি না। স্বাভাবিক হতে পারছি না। বিশ্বাস হচ্ছে না রাজ্জাক ভাইকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে হবে। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। কয়েকদিন আগেও তার সাথে আমার কথা হলো। আমি নতুন বাসায় উঠেছি। সেখানে ভাবিসহ তাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। রাজ্জাক ভাইকে ফোন করে বললাম, আপনাকে রান্না করে খাওয়াবো। ভাবিকে নিয়ে চলে আসেন। তারা তখন থাইল্যান্ড ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
 
আমাকে বললেন, ‘ববিতা আমরা তো থাইল্যান্ড ঘুরতে যাচ্ছি। ফিরে এসে তোমার রান্না খাবো।’ ফোনের ওপার থেকে সেই কথাগুলো এখনও আমার কানে বাজে। রাজ্জাক ভাইকে রান্না করে আর খাওয়ানো হলো না। হুট করেই তার চলে যাওয়ার খবর পেলাম। এরপর হাসপাতালে যাওয়ার সময় আলমগীর ভাইকে ফোন দিলাম। তিনি জানালেন সেখানে অনেক ভিড়। আমি এরপর রাজ্জাক ভাইয়ের বাসার দিকে রওনা হলাম।
 
রাজ্জাক ভাইয়ের মতো আমিও জহির রায়হানের চলচ্চিত্র দিয়ে ঢাকাই ছবির ক্যারিয়ার শুরু করি। প্রথমে তার সাথে একটি ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করার সুযোগ পাই। এরপর প্রায় ৪০টি ছবি আমরা একসাথে করেছি। শুটিংয়ের কত স্মৃতি। আমার কাছে তিনি নায়ক ছিলেন না, তিনি ভাই ও অভিভাবক। তার সঙ্গে সম্পর্কটা পারিবারিক।
 
এই পারিবারিক সম্পর্কটা যে শুধু আমার সাথে তা কিন্তু নয়, রাজ্জাক ভাই এমন একজন মানুষ যার সাথে আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনের প্রতিটি মানুষের সম্পর্ক ভালো। আমরা যারা সেসময় একসাথে কাজ করতাম তারা সবাই পরিবারের মতো। আর রাজ্জাক ভাই ছিলেন আমাদের পরিবারের অভিভাবক। তার বাসায় গিয়ে কখনও মনে হয়নি যে, এট নিজের বাসা নয়। রাজ্জাক আমার দেখা শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন। ভালো থাকুক মানুষটি। 
 
অভিনেতা রাজ্জাকের সঙ্গে বন্ধুত্ব, সম্পর্ক নিয়ে বলছিলেন রাজ্জাক-ববিতা জুটির নায়িকা ববিতা। 
 
ইত্তেফাক/আনিসুর