ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মৌলিক অধিকার: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট

আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে পর পর দু’টি ঐতিহাসিক রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর বৃহস্পতিবার নাগরিকের গোপনতা রক্ষা অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়ের ফলে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চের সদস্যেরা ঐকমত্যে পৌঁছে জানালেন, ব্যক্তিগত গোপনতা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে।
IMG0
রায়ে দেশটির শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, জীবন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সহজাতভাবে জড়িয়ে রয়েছে নাগরিকের গোপনতা রক্ষার অধিকারও। সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় ওই অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। কাজেই, গোপনতা মৌলিক অধিকারের পর্যায়েই পড়ে।
IMG1
সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে একটি মামলার শুনানি চলাকালীন প্রশ্ন ওঠে, ব্যক্তিগত গোপনতা মৌলিক অধিকার কি না। সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতেই বিষয়টি গত ১৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বে নয় সদস্যের ওই সাংবিধানিক বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জে চেলমেশ্বর, বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি আর কে অগারওয়াল,  বিচারপতি আর এফ নরিম্যান, বিচারপতি এ এম সাপ্রে,  বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি এস কে কল এবং বিচারপতি এস আব্দুল নাজির। 
IMG2
এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম বলেছেন, ‘সংবিধানের ২১তম অনুচ্ছেদ আরো তাৎপর্য পেল। ১৯৪৭ এ আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম তা আরও সমৃদ্ধ হল।’ কেবলমাত্র আইন হিসেবেই নয়। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়েও আশাবাদী রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এ নিয়ে বিজেপি সরকারকে একহাত নিতেও ছাড়েননি বিরোধী নেতারা। কংগ্রেস নেতা সালমন খুরশিদ বলেছেন, ‘ব্যক্তির গোপনতা মৌলিক অধিকার, আমাদের গণতন্ত্রে এর সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য রয়েছে। যে শক্তিগুলি আমাদের জীবনে অনধিকার প্রবেশ করতে চাইছে তার পরাজয় উদযাপন করুন।’ এনডিটিভি।
 
ইত্তেফাক/সেতু