আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে দলের এক-তৃতীয়াংশ এমপিকে প্রার্থী করছে না ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। ২০১৪ সালে নির্বাচিত ৭১ জন এমপিকে এখন পর্যন্ত বাদ দিয়েছে দলটি। কয়েক দিনের মধ্যে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। কারণ এখনো ২৬টি আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়নি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের ভোট গ্রহণের ক্ষণ যত এগিয়ে আসছে নেতাদের বক্তব্যের ভাষা ততটা কড়া হচ্ছে। গতকাল এক সমাবেশে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, বিজেপিতে পরিবারতন্ত্র চলে না। বিজেপি হলো দেশবাসীর আকাঙ্খার ফল। তবে বিজেপির সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, এবারের লোকসভা নির্বাচন হলো বিজেপি-আরএসএস এবং কংগ্রেসের মতাদর্শের লড়াই। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, কেন্দ্রের নতুন সরকার গড়তে তার দল তৃণমূল কংগ্রেসই নেতৃত্ব দেবে।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে ৪০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বিজেপির প্রার্থীরা। বাকি আসনগুলো জোটের প্রার্থীদের জন্য ছেড়ে দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল। খবরে বলা হচ্ছে, এই পদক্ষেপের কারণে বিজেপি’তে বিদ্রোহের ঘটনা যেমন বাড়ছে তেমনি অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন অভিনেতা এমপি শত্রুঘ্ন সিনহা। গতকাল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, বিজেপি এখন ‘ওয়ান ম্যান শো’, ‘টু-ম্যান আর্মি’ হয়ে গেছে। বিজেপির বর্ষীয়াণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শত্রুঘ্ন সিনহা ক্রমেই দলে কোণঠাসা হচ্ছিলেন। তাকে এবার প্রার্থী না করায় বিরোধ চরমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বিজেপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে কংগ্রেসে যোগ দিলেন তিনি।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, শত্রুঘ্ন সিনহাকে আসন্ন নির্বাচনে তার পুরনো আসন বিহারের পটনা সাহিব থেকে প্রার্থী করা হবে। সমর্থন থাকবে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের। এর আগে বিজেপির হয়ে সেখান থেকে দু’বার এমপি হয়েছিলেন তিনি। ওই কেন্দ্রে তার প্রতিদ্বন্দী হবেন বিজেপির মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ।
নেতাদের কথার লড়াই
গতকাল উড়িষ্যার সুন্দরগড়ে নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তিনি বলেন, শক্তিশালী ভারতের জন্য শক্তিশালী সরকার দরকার। আগে যারা সরকারে ছিল তারা জঙ্গি দমনে পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা নিয়েছি। দেশে কেমন সরকার দরকার সেটা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি বিজেপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠা দিবসে টুইট করে বলেছেন, ভারতকে ?নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতেই তৈরি হয়েছিল বিজেপি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশাত্মবোধের জন্য বিজেপি এই জায়গায় আসতে পেরেছে। এদিকে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে কংগ্রেস নেতা রাহুল বলেছেন, এবারের নির্বাচন হলো মতাদর্শের লড়াই। বিজেপি আরএসএস এর মতাদর্শের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের মতাদর্শের লড়াই। তিনি বলেন, একজন দেশকে বিভক্ত করতে চায়, অন্যরা চায় সবার সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ। আদভানির প্রতি বিজেপির আচরণেরও সমালোচনা করেন তিনি।
বিজেপির বিরোধিতায় সরব রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাও। পশ্চিমবঙ্গের মাথাভাঙায় এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির টার্গেট হলো বাঙালিদের তাড়ানো। আসামের মতো চক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গে সফল হতে দেব না। এই রাজ্যে তারা ৪২টির মধ্যে একটি আসনও পাবে না। তিনি বলেন, বিজেপি জিতলে দেশে গণতন্ত্র থাকবে না। মুসলিমদের অধিকার থাকবে না। শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, লাগোয়া বিধাননগর পুলিশ কমিশনার এবং দুই জেলার পুলিশ সুপারকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেছেন, সব কর্মকর্তাকে বদলি করে দিন। তাতেও আমাকে বদলাতে পারবেন না।? এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখেছেন।
অমিত শাহের মনোয়ন বাতিল চায় কংগ্রেস
নির্বাচনের আগে শুধু মোদি নয় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকেও টার্গেট করছে কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনে পেশ করা হলফনামায় অমিত শাহ ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পত্তির পরিমাণ কমিয়ে দেখিয়েছেন অভিযোগ তুলে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে ‘ভুয়া হলফনামা’ দেওয়ার অভিযোগও কমিশনকে জানিয়েছে তারা। সরকারি নথি অনুযায়ী, অমিতের সম্পত্তির বাজার দর ৬৬ লাখ ৫০ হাজার রূপি। অথচ হলফনামায় এই সম্পত্তির মূল্য ২৫ লাখ রূপি দেখানো হয়েছে। এদিকে নির্বাচনী জনসভায় ভারতীয় সেনাকে ‘মোদীজির সেনা’ মন্তব্য করায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ’কে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন।