মেহেদী হাসান
বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে চলমান উপজেলা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কমে আসার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার বিষয়টি আওয়ামী লীগের মধ্যে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সরকারের কোন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। শুক্রবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। জবাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিষয়টি পরে দেখা যাবে’। বৈঠক সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সরকার (উপজেলা) (সংশোধন) বিল-২০১৫ এ বলা হয়েছে, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দুটি ভাইস চেয়ারম্যান (সাধারণ ও সংরক্ষিত) পদের নির্বাচনের জন্য প্রার্থীকে রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে। আইনটি পাস হওয়ার পর ২০১৭ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের ভোট হয়। এর দুই বছর পর এবার পঞ্চম উপজেলা পরিষদের ভোট শুরু হয়েছে ৯ মার্চ। তবে এই নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ৩৬ শতাংশ হয়েছে, যা নিয়ে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ভোটারদের মাঝে নির্বাচনকে আস্থাশীল করার পরামর্শও আসছে।
আওয়ামী লীগের তিন জন সিনিয়র নেতা ইত্তেফাককে জানান, ভোটের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ ও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি একেবারেই কমে যাচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দিয়ে উন্মুক্ত রাখলে আবারো আগের মতো ভোটের আমেজ ফিরে আসবে। তাই আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন না দেওয়ার পক্ষে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়া নিয়ে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা দেওয়ায় ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। এটি পরিবর্তন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। তবে আমরা অফিসিয়ালি এখন বলতে পারবো না। পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে দলীয় প্রতীক উঠে যাবে।’