হজযাত্রীদের অনিশ্চয়তা কাটেনি, মন্ত্রী হজে

 
হজ শুরুর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও বহু হজযাত্রী এখনো সৌদি আরব যেতে পারেননি। এজেন্সির প্রতারণার কোনো সুরাহা হয়নি। বিমান বাংলাদেশ আজ রবিবার ও আগামীকাল সোমবার বাড়তি ফ্লাইট পেলেও অনেক যাত্রীর অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে হজযাত্রীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের আরো একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই ফ্লাইটটি চূড়ান্তভাবে বাতিল হলে আরও সাড়ে চারশ হজযাত্রীর সৌদি যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
 
যাত্রীদের অনিশ্চয়তায় রেখে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হজ প্রতিনিধি দল শনিবার সৌদি আরব চলে গেছেন।
 
আজ রবিবার সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, ভিসাপ্রাপ্ত কোনো হজযাত্রীকে সৌদি আরব না পাঠালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াপ্তসহ ফোজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
 
এক নির্দেশনায় জানানো হয়, ভিসাপ্রাপ্ত সব হজযাত্রীদের টিকেট নিশ্চিত করে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব পাঠাতে হবে, অন্যথায় এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলামের সই করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব এজেন্সির সত্ত্বাধিকারী/অংশীদার/পরিচালক/চেয়ারম্যানদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আপনার এজেন্সির ভিসাপ্রাপ্ত সব হজযাত্রীদের টিকিট নিশ্চিত করে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব পাঠানো জন্য নির্দেশ দেয়া গেল।
 
ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান চলে যাওয়ায় হজযাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেছিলেন,একজনও হজযাত্রী বাকি রেখে হজে যাবেন না তিনি। কিন্তু হজ অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান,গত এক সপ্তাহে একদিনও মন্ত্রী হজ আফিসে যাননি।
 
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৯০৭৯ ফ্লাইট যোগে ১৪ সদস্যের একটি দল ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করেন।
 
প্রতিনিধি দলে আরও আছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এ কে এম আউয়াল (সাইদুর রহমান) ও নজরুল ইসলাম বাবু এম পি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এস.এম. গোলাম ফারুক প্রমুখ।
 
এদিকে বাতিল হওয়া বিমানের ফ্লাইটটি শনিবার বিকাল ৪টায় বিমানটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কথা ছিল।
 
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ জানান, শনিবারের বাতিল ফ্লাইটটি আমরা আজ রবিবার ২৭ আগস্ট দেয়ার জন্য অনুমতি চেয়েছি। চলতি বছর নানা জটিলতায় প্রথমদিকে ৩০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়। ফলে শেষ মুহূর্তে এসে হজযাত্রীদের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
 
এদিকে, চলতি মৌসুমে হজ অব্যবস্থাপনার জন্য সরকারকে দুষছে হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন ‘হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের’ (হাব)।
 
আজ দুপুরে রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্পে আয়োজিত হজ ব্যবস্থাপনা ও হজযাত্রী পরিবহন সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব সাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, ভিসা থাকা সব হজযাত্রীকে হজে পাঠানো হবে।
 
তিনি বলেন, ভিসা সংগ্রহের পরও হজযাত্রীদের ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে না যেসব এজেন্সি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের কপাল পুড়বে। জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
 
হজ ফ্লাইট বাতিলের জন্য ৬টি কারণ উল্লেখ করেন শাহাদাত হোসাইন তসলিম। তিনি বলেন, হজ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার জন্য অনেকেই হাবকে দায়ী করে ছিলেন। হজ ফ্লাইট বাতিলের কারণগুলো হলো, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে মোয়াল্লেম ফি প্রদান করা, সৌদি সরকার কর্তৃক আকস্মিকভাবে ২ হাজার সৌদি রিয়াল চার্জ ধার্য করা, শুরু থেকে ই-ভিসা প্রিন্টিংয়ের জটিলতা, ৯১ হজ এজেন্সির সময় মতো মোয়াল্লেম না পাওয়া, মদিনায় ৮ দিনের থাকার বিধান মানার কারণে ফ্লাইটের তারিখ পছন্দের বাধ্যবাধকতা এবং শুরুর দিকে ৩ হাজার টাকা ভাড়া বৃদ্ধি। এসব বিষয় এবারে হজযাত্রায় প্রভাব ফেলে।
 
ইত্তেফাক/কেকে