ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে শুক্রবার আদালত ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। এ ঘটনায় তার ভক্তরা হরিয়ানা আর পাঞ্জাবে রীতিমতো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অথচ এই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে ২০০২ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন তারই আশ্রমের এক সাধ্বী। এরপর ‘দেশ সেবক’ নামক একটি পত্রিকায় চিঠিটি প্রকাশ হওয়ার পর রাম রহিমের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়। শনিবার আনন্দবাজার পত্রিকায় আবারো প্রকাশ করা হয়েছে ওই চিঠিটি।
ওই চিঠিতে অভিযোগকারী সাধ্বী লিখেছিলেন, আমি পাঞ্জাব থেকে এসেছি। আমি একজন স্নাতক। সিরসা (হরিয়ানা)-র ডেরা সচ্চা সৌদায় গত পাঁচ বছর ধরে সাধ্বী হিসেবে সেবা করছি। আমার মতো কয়েকশো মেয়ে প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা সেবা করে চলেছেন। কিন্তু এখানে আমরা যৌন নির্যাতনের শিকার। ডেরায় মেয়েদের ধর্ষণ করেন ডেরা মহারাজ (গুরমিত সিংহ)।
সাধ্বী হওয়ার দুই বছর পর একদিন রাত ১০টার দিকে এক মহিলা ভক্ত আমার ঘরে এসে জানান, মহারাজ আমাকে ডেকেছেন। মহারাজ স্বয়ং ডেকেছেন শুনে খুব উচ্ছ্বসিত হই। সাধ্বী হওয়ার পর সেটাই তার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। সিঁড়ি বেয়ে ঘরে ঢুকি দেখি তার হাতে একটা রিমোট এবং টিভিতে তিনি অশ্লীল ভিডিও দেখছেন। বিছানায় তার বালিশের পাশে একটা পিস্তল রাখা ছিল। এসব দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই।
এরপর মহারাজ টিভিটা বন্ধ করে দেন। আমাকে ঠিক তার পাশে বসান। তারপর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলেন, আমাকে তিনি হৃদয়ের গভীর থেকে ভালবাসেন। আমার সঙ্গে সম্পর্ক করতে চান। তিনি বলেন, তার শিষ্যা হওয়ার সময়ই আমার সব সম্পদ, শরীর এবং আত্মা তার কাছে উৎসর্গ করেছি এবং তিনি তা গ্রহণও করেছেন। আমি বাধা দিলে তিনি বলেন, আমি ঈশ্বর, এতে কোনও সন্দেহ নেই। আমি তাকে বলি, ঈশ্বর কখনও এ রকম করেন না। আমাকে বাধা দিয়ে তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণও ঈশ্বর। তার ৩৬০ জন গোপী ছিলেন। যাদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ প্রেমলীলা করতেন। আমাকেও সবাই ঈশ্বর মানে। এতে এত অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, আমি তোমাকে এখনই এই পিস্তল দিয়ে খুন করতে পারি। তোমার লাশ এখানেই পুঁতে রাখব। তোমার পরিবারের প্রতিটা সদস্য আমার অন্ধ ভক্ত, তারা কখনই আমার বিপক্ষে যাবেন না। সরকারের উপরেও আমার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রের অনেক মন্ত্রীও আমার কাছে আসেন। সুতরাং তারাও আমার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে না। আমি তোমার পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি কেড়ে নেব এবং তাদের সেবাদার দিয়ে খুন করাব। তুমি খুব ভালো করেই জানো, ডেরা ম্যানেজার ফকির চাঁদকেও আমি খুন করিয়েছি। এখনও সেই খুনের কিনারা হয়নি। ডেরার দৈনিক আয় এক কোটি। এই টাকা দিয়ে আমরা নেতা, পুলিশ এমনকি বিচারক সকলকেই কিনতে পারি।
ঠিক এরপরই মহারাজ আমাকে ধর্ষণ করেন। গত তিন বছর ধরেই মহারাজ এভাবে আমাকে ধর্ষণ করছেন। আমি জানতে পেরেছি, আমার মতো যতজন সাধ্বীকে তিনি তলব করেছেন, তাদের সকলকেই ধর্ষণ করেছেন।
ইত্তেফাক/এমআর