ইত্তেফাক রিপোর্ট
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশে মরক্কোর বিনিয়োগ আহ্বান করেছেন। মরক্কোর অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বেঞ্চাবোনের সঙ্গে এক বৈঠকে মুস্তফা কামাল বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে টেকসই করার জন্য সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলেছে। তিনি এ সকল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে অংশীদারিত্বের পদ্ধতিতে তৈরি পোশাকশিল্প, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স, চামড়াজাত পণ্য উত্পাদনে বিনিয়োগের জন্য মরক্কোর প্রতি অনুরোধ জানান। এ সকল পণ্য মরক্কোর বাজারে শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও অনুরোধ করেন তিনি।
৫-৬ এপ্রিল মরক্কোর মারাক্কাসে অনুষ্ঠিত ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) ৪৪তম বার্ষিক সভায় যোগদান করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। সভায় ও বিভিন্ন সেশনে আনুষ্ঠানিক যোগদানের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী এবারের বার্ষিক সভার চেয়ার ও মরক্কোর অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বেঞ্চাবোনের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। অর্থমন্ত্রণালয়ের এ প্রেসবার্তায় জানানো হয়, বৈঠকে দুদেশের অর্থমন্ত্রী পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। মরক্কোর অর্থমন্ত্রীকে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে, মোহাম্মদ বেঞ্চাবোন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া অবিশ্বাস্য সফলতা দেখার জন্য তিনি শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে দুদেশের অর্থমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন।
মেগা প্রকল্পগুলো পুঁজিবাজারমুখী
ইত্তেফাক রিপোর্ট
আমাদের দেশের শিল্পখাত ব্যাংকভিত্তিক অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। যখনই কোনো উদ্যোক্তার টাকার প্রয়োজন হয় তখন তারা সবার আগে ব্যাংকের কাছে যায়। সময়ক্ষেপণসহ বিশেষ কিছু কারণেই তারা এমনটি করে থাকেন। এতে স্বল্পমেয়াদী আমানত সংগ্রহ করে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করায় ব্যাংকিংখাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য খুবই বিপজ্জনক। তাই দেশের চলমান মেগা প্রকল্পগুলো পুঁজিবাজারমুখী করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্টিল এবং সিমেন্ট খাতের প্রধান নির্বাহী ও বিশেষজ্ঞরা।
ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারের অবকাঠামো খাতের কোম্পানি: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন এ খাতের শীর্ষ নির্বাহী ও বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবনে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সভাপতি ছিলেন দি ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনাইটেড সিকিউরিটিজের পরিচালক মাহফুজুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন ক্রাউন সিমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ খান, এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেসের পরিচালক মো. রেজাউর রহমান, জিপিএইচ ইস্পাতের নির্বাহী পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক এফসিএমএ ও বসুন্ধরা গ্রুপের কোম্পানি সেক্রেটারি নাসিমুল হাই।
সেমিনারে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে যত কোম্পানি আছে তার মধ্যে খুব কম সংখ্যকই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। অজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা হারাবার আশঙ্কায় কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হয় না। এছাড়া তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের ঝামেলা এড়াতে অনেকেই লিস্টেড হতে চান না।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানি সম্প্রসারণের জন্য যে ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সেরকম কোনো ঝামেলা নেই। এ কারণেই উদ্যোক্তারা বেশি বেশি ব্যাংকের দিকে ছোটে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট আইন পরিপালন করতে পারবে না বলেই অনেক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন মাসুদ খান। এছাড়া বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণের ভয়েও পুঁজিবাজার থেকে দূরে থাকে অনেক ভালো ভালো কোম্পানি।
নাসিমুল হাই বলেন, কোনো কোম্পানি যখন তালিকাভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারপর থেকে প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হতে তিন বছর সময় লেগে যায়। কিন্তু এই সময়টাতে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বসে থাকতে পারে না। যে কোনোভাবে তার কোম্পানি চালাতে হয়। তখন বাধ্য হয়েই একজন উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়।
মাহফুজুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট ট্যাক্সের হার ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে পুঁজিবাজারের বাইরের কোম্পানিগুলোকে এই ট্যাক্স দিতে হয় ৩৫ শতাংশ। মাত্র ১০ শতাংশ ট্যাক্স অব্যাহতি যথেষ্ট মনে করেন না অনেকে। এছাড়া তালিকাভুক্ত হলে রেগুলেটরদের নির্দেশনায় আসার ব্যাপারে অনিহা রয়েছে পুঁজিবাজারের বাইরের ভালো ভালো কোম্পানিগুলোর।