মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বখাটেরা এক গৃহবধূর নগ্ন ভিডিও ধারণ করে তার সম্ভ্রমহানি, তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং ওই তরুণীকে আটকে রেখে তার স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুজনের মোবাইল ফোনসহ টাকা-পয়সাও কেড়ে নেয় বখাটেরা। বখাটেরা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী ভয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। অভিযুক্ত বখাটেরা হলো উপজেলার তন্তর গ্রামের মো. খলিল শেখের ছেলে মো. মিশু (৩৫), মো. আকবর বেপারীর ছেলে আল আমিন বেপারী (২৫), মৃত সামছু ঢালীর ছেলে নুর আলম ঢালী (৩০) ও মৃত ফজল শেখের ছেলে শাজাহান শেখ (২৮)। এ বিষয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত শুক্রবার স্থানীয়ভাবে এ ঘটনার সমাধানে সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা ভেস্তে যায়।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ সন্ধ্যার দিকে তন্তর এলাকার বাসিন্দা এক অটোচালক তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজের অটোতে করে বাড়ি যাচ্ছিল। এসময় স্থানীয় বখাটে মিশু ও তার সহযোগীরা রাস্তায় তাদের থামায়। ওই গৃহবধূকে নামিয়ে তারা চালক স্বামীকে মেয়ে নিয়ে ভেগে যাওয়ার অপবাদ দিয়ে টানা-হেঁচড়া করতে থাকে। এরপর রাস্তার নিচে নিয়ে ওই গৃহবধূকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করে তারা। পরে স্বামী-স্ত্রীকে রাস্তা থেকে ওই অটোতে করেই ইউনিয়নের রুসদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি স্থানে নিয়ে যায় তারা। ওই গৃহবধূকে আটকে রেখে তার স্বামীকে তারা ছেড়ে দেয় এবং স্ত্রীকে ছাড়িয়ে নিতে বিকাশে টাকা পাঠাতে বলে। এরপর ওই গৃহবধূর স্বামী মিশুর সহযোগী নুর আলমের নম্বরে বিকাশ করে ২ হাজার টাকা পাঠান। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা ওই গৃহবধূকে ছেড়ে দেয়। স্থানীয়রা আরো জানান, বখাটে মিশু, আল আমিন, নুর আলম ও শাজাহান এলাকায় মাদক সেবন ও কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সেখানকার বাসিন্দারা ওই দম্পতিকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার বিকালে তন্তর ইউনিয়ন পরিষদের সালিশ বৈঠক বসার প্রস্তুতিকালে রহস্যজনক কারণে তা ভেস্তে যায়।
ওই গৃহবধূর বাবা বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানানোর পর থেকে অভিযুক্ত বখাটেরা তাদের হুমকি- ধামকিসহ ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কারণে তার মেয়ে ও মেয়ে জামাই আত্মগোপন করেছে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের ভয়ে থানায় অভিযোগ করার সাহস পর্যন্ত পাচ্ছেন না।
তন্তর ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, স্থানীয়ভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা দুটি মোবাইল ফোন ও ছিনিয়ে নেওয়া কিছু টাকা ফেরত দেয়। ভিডিও ধারণের বিষয়টি আমার প্রথমে জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর আমি ওই গৃহবধূর বাবাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তার একতিয়ার বহির্ভূত বিধায় এ বিষয়ে বিচার সালিশে বসা যায়নি। শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।