বনানী অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি
জামিউল আহসান সিপু
বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সময় আট তলার (লেভেল-৭) স্পেক্ট্রা এসএন টেক্সটাইল অফিসে মাত্র দুইজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সময় ওই অফিসের একজন কর্মচারী বাইরে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন স্পেক্ট্রা টেক্সটাইলের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মঈন উদ্দিন বাঁধন ও সহকারী ব্যবস্থাপক কফিল উদ্দিন। অফিসের একজন পিয়ন উপস্থিত ছিলেন যিনি কি না আগুন লাগার ১০/১৫ মিনিট আগে দুপুরের খাবারের কথা বলে বাইরে চলে যান। আগুনের সূত্রপাতের পর ওই দুই কর্মকর্তা কাউকে কিছু না বলে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে নিজ নিজ বাসায় চলে যান। তাদের এই নীরব প্রস্থানের বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি ‘খুবই রহস্যজনক’ বলে মনে করছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টটি আগামীকাল জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশাসন) শামীম হাসানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্য ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগামী সোমবার নাগাদ তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিতে পারে। আট নম্বর ফ্লোর থেকে আগুনের সূত্রপাত। ওই ফ্লোরে ভবনের একটি গ্যাস সংযোগ রয়েছে। আমরা প্রায় সব ফ্লোরের প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দী পেয়েছি। তবে আট নম্বর ফ্লোরের কাউকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে পাইনি।’
এর আগে অগ্নিকাণ্ডের পর গত ৩১ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এক গণশুনানির আয়োজন করে। গণশুনানিতে স্পেক্ট্রা টেক্সটাইলের সহকারী ব্যবস্থাপক কফিল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোনো আগুন দেখিনি। ওপর থেকে ধোঁয়া এসেছে আমাদের ফ্লোরে। আমি এবং আমাদের কমার্শিয়াল ম্যানেজার মাইন উদ্দিন বাঁধন আট তলায় আমাদের অফিস ছিলাম। দুপুরে আমরা অফিসের সিঁড়ির পাশে ও লিফটের সামনে ধোঁয়া দেখি। এরপর আমি বাঁধনকে ডাক দেই। ওপর থেকে আগুনের ফুলকি পড়তে দেখে দুজনে সিঁড়ি দিয়ে বের হয়ে যাই।’
গণশুনানিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির প্রধান ফয়জুর রহমান বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, ভবনের অষ্টম তলায় স্পেক্ট্রা টেক্সটাইল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে আগুনের সূত্রপাত। সাক্ষীরা বলেছেন, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। সাধারণত এ ধরনের বহুতল ভবনে যে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা দরকার, তা ছিল না। আগুন লাগার সময় ভবনে কোনো ধরনের ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি এবং কখনো কোনো অগ্নিসুরক্ষা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়নি। তারা (শুনানিতে আসা কর্মীরা) অনেকে এক্সিট ডোরের কথা জানতেন না। এক্সিট ডোরের কোনো দিকনির্দেশনাও ছিল না। তাই তারা এটা ব্যবহার করতে পারেননি। ভবনটি সম্পূর্ণ গ্লাস দিয়ে ঢাকা থাকায় আগুন থেকে যে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়, তা বের হতে না পেরে পুরো ভবনের ফ্লোরগুলো এবং সিঁড়িতে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ কারণে মানুষের বের হয়ে আসাটা কঠিন ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, এফআর টাওয়ারের আট তলায় স্পেক্ট্রা টেক্সটাইলের স্টোর রুম রয়েছে। স্টোর রুমে টেক্সটাইল কারখানায় ব্যবহূত কেমিকেলের নমুনা ছাড়াও স্পেক্ট্রা সোয়েটার ও স্পেক্ট্রা বায়িং হাউজের পোশাকের নমুনা রাখা ছিল। স্টোর রুমের পাশেই রান্নাঘর।
সেখানে গ্যাসের চুলাও রয়েছে। আবার চায়ের পানি গরম করা হয় ইলেকট্রিক কেটলির মাধ্যমে। শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে সেখানে থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।