হাইওয়ে পুলিশের দুরবস্থা চরমে

হাইওয়েতে যানজট নিয়মিত ঘটনা। বাড়ছে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের নিজেদেরই অবস্থা বিকলাঙ্গ। তাদের নেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা। যানবাহনের সংকট প্রকট। ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পান না সিংহভাগ হাইওয়ে পুলিশ সদস্য। তাদেরই দিন কাটছে চরম দুরবস্থায়। এ অবস্থার মধ্যেও হাইওয়ে পুলিশ বিরামহীনভাবে সড়কে যানবাহন চলাচলে স্বাভাবিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যানবাহন সংকটের মধ্যেও প্রতিদিনই তাদের ভিআইপি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে হয়। যে সকল যানবাহন হাইওয়ে পুলিশ ব্যবহার করে তাও জরাজীর্ণ ও লক্কড়-ঝক্কড়। অথচ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা হাইওয়ে দিয়ে চলাচল করছেন নিয়মিত। তাদের চোখের সামনে এই হাইওয়ে পুলিশের দুরবস্থার কথা কারো চোখে পড়ে না। পড়লেও তারা না দেখার ভান করে থাকেন। হাইওয়ে যানজটের অন্যতম কারণ সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখা অপেক্ষমাণ গাড়ি। মালবাহী গাড়ি রাজধানীতে ঢোকার জন্য রাত ৮টার পর যাত্রা শুরু করে। এর আগে হাইওয়ে সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষায় থাকে। এতে করে লেগে যায় যানজট। তবে এই সমস্যার সমাধানে দরকার গাড়ি অপেক্ষার আলাদা জায়গা। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশের র্যাকার সংকটের কারণে নষ্ট গাড়ি দ্রুত সরানো যায় না। একটি নষ্ট গাড়ি সরাতে এক থেকে দুই ঘণ্টা এবং মালবাহী গাড়ি সরাতে লাগে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। এই সময়ের মধ্যে হাইওয়ের উভয় দিকে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে না হতে আরেকটি গাড়ি নষ্টের খবর চলে আসে। ১৩টি র্যাকার দিয়ে ৪ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে কোনো নষ্ট গাড়ি সরাতে গেলে দীর্ঘ সময় লাগা স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি নিরসনে র্যাকারসহ অন্যান্য যানবাহন ও জনবল সংকট সমাধানের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এতো সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। ২০০৫ সালে হাইওয়ে পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুতেই ছিল ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের মতো অবস্থা। বর্তমান সরকারের আমলে যানবাহন ও জনবল বৃদ্ধি করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা অতি নগণ্য।

বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের অধীনে রয়েছে ৪ হাজার কিলোমিটার সড়ক। লোকবল আছে ২ হাজার ৯২০ জন। গাড়ি আছে ৭২টি, র্যাকার আছে মাত্র ১৩টি। তবে শতাধিক র্যাকার প্রয়োজন বলে জানা গেছে। এই অল্প জনবল ও যানবাহন দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, হাইওয়ে নিরাপদ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখাটা অনেক কঠিন।

এ বিষয়ে পুলিশের আইজি একেএম শহিদুল হক বলেন, হাইওয়ে থানা ও ফাঁড়ির যেসব ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার সেটা নেই। জীবনবাজি রেখে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন তারা। হাইওয়ে পুলিশের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাসহ জীবনমান উন্নয়নের প্রস্তাব আমরা ইতোমধ্যে দিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই ভালো কিছু হবে।

এ দিকে হাইওয়েতে দিনের বেলা বাস, কোচ, ট্রাক, মিনিবাস, কাভার্ড ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন ওভারটেক, কে কার আগে যাবে এ নিয়ে বেশিরভাগ সময় প্রতিযোগিতার লিপ্ত থাকে। হাইওয়েতে ওভারটেকই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে সন্ধ্যার পর নাইট কোচ, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন একইভাবে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। এই যেন দুর্ঘটনা ঘটছে এমন পরিস্থিতি।

এর মধ্যে রয়েছে ইঞ্জিন চালিত নসিমন করিমনসহ ভটভটি। রাস্তার দুপাশে এ সব যানবাহন বিপজ্জনকভাবে যাত্রী ও মালামাল আনা-নেওয়া করে। সন্ধ্যার পর এ সব যানবাহন দূর থেকে শনাক্ত করার জন্য নেই কোনো বাতি বা সাংকেতিক চিহ্ন। অতি নিকটে আসার পর বুঝা যায় এটা একটা ইঞ্জিনচালিত দুর্বল গাড়ি। জনবল ও ব্যবস্থাপনা সংকটের কারণে এ সব দেখভাল করতে পারছে না হাইওয়ে পুলিশ। হাইওয়ের এমন অব্যবস্থার ফলে প্রতিদিনই ঘটছে অসংখ্য দুর্ঘটনা। নিহত হচ্ছে বিপুল সংখ্যক লোক। তাদের পরিবার হচ্ছে সর্বস্বান্ত।

পুলিশের ডিআইজি (হাইওয়ে) আতিকুর রহমান বলেন, জনবল সংকট দূর করা ও যানবাহন বাড়ানোর কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। আমাদের যা আছে তা দিয়েই হাইওয়ে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখার চেষ্টা করছি। তবে অপেক্ষমাণ গাড়ির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে যানজট অনেক কমে যেতো।

ইত্তেফাক/নূহু