জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষা বর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্ব পরীক্ষার ফলাফল মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত হয়েছে। আর এতে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে শতভাগ পাশ করেছে।
ওই কলেজ থেকে এবছর সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে ১২জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে হাবিবা ইয়াসমিন, সায়লা শিরিন, আয়শা জান্নাত পাপড়ী, মাহামুদা আক্তার ও সাবিহা আক্তার এ পাঁচজন প্রথম বিভাগ এবং মাজিদা আক্তার, পাপড়ী রানী, পুর্ণিমা বড়াল, নাহিদা আক্তার, নুসরাত জাহান, ফারজানা হক ও শাহিনা আক্তার এ সাতজন দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে কলেজে শতভাগ পাশ করেছে বলে বিভাগীয় প্রধান মো. খলিলুর রহমান জানান।
এদিকে বুধবার ফলাফল জানার পর ওই কলেজের অধ্যক্ষের সাথে এক ফটো সেশন শেষে প্রথম বিভাগে উত্তির্ণ, হাবীবা আক্তার ও আয়শা জান্নাত পাপড়ী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু'র প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে জানান, যদি গ্রামীণ জনপদে নারী শিক্ষার অগ্রগতির কথা চিন্তা করে এ কলেজটি প্রতিষ্ঠিত না করত তাহলে আমাদের মত নিম্ন মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল পরিবারের মেয়েদের পক্ষে এতদূর পর্যন্ত আসা সম্ভব ছিলনা।
উপস্থিত অনন্যরা জানান আমরা সবাই তার (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু'র) প্রতি চীর কৃতজ্ঞ কারণ কলেজটি শুধু মেয়েদের জন্য হওয়ায় সুস্থ পরিবেশ ও যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধা রয়েছে। তার চেয়েও বড় কথা হল কর্তৃপক্ষের সার্বিক তত্ত্বাবধান ছাড়াও শিক্ষকদের আন্তরিকতার কারণে আমাদের মত অনেকেই দরিদ্র পরিবার থেকে এসে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। অতীতে একটা সময় ছিল যখন আমাদের রক্ষণশীল পরিবার থেকে বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে একত্রে পড়াশুনা করার ঘোর বিরোধী ছিল। কিন্তু যখন মেয়েদের জন্য স্থানীয়ভাবে উচ্চ শিক্ষার জন্য কাছা-কাছি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় তাদের সেই পুরনো ধ্যানধারণারও পরিবর্তন হয়েছে। এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত না হলে আমাদের হয়ত উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ সম্ভবই ছিলনা। এতদিনে হয়ত এক এক জন দুই/তিনটি সন্তানের মা হতাম।
উল্লেখ্য, দক্ষিণের গ্রামীণ জনপদে নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য ১৯৮৯সালে এ কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইত্তেফাক/জামান