আমাদের সবার প্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা নমিনেশন ফর্ম কিনেছেন। নমিনেশন ফর্ম কিনেছেন আরও অনেক তারকা ব্যক্তিত্বরা। আশা করা যাচ্ছে, তারা সবাই বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হবেন। এইসব তারকা ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে সংসদ অধিবেশন হলে সেটা কেমন হবে ভেবেছেন আশরাফুল ইসলাম
প্রথমে সূচনা বক্তব্য দেওয়ার পর স্পিকার বলবেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য কনকচাঁপা, আপনার সময় দুই মিনিট।’
তখন কনকচাঁপা কিঞ্চিত বিরক্তি প্রকাশ করে গেয়ে উঠবেন—
‘অনন্ত সময় তুমি দাও আমাকে...
দুই মিনিটে কথা বলে ভরবে না এ মন,
এক ঘণ্টা ধরে চাইব আমি এলাকার উন্নয়ন।
অনন্ত সময়, তুমি দাও আমাকে...’
তখন অপর পাশ থেকে সংসদ সদস্য বেবী নাজনীন বলে উঠবেন—
‘আজ আঠারো বছর পরে, সংসদের এই ঘরে
কথা বলতে এসেছি যখন,
দেখি কনকচাঁপার কথায়—
পেরিয়ে যায় সময়
আমার কথা বলব কখন?’
ঠিক তখন অন্য পাশ থেকে সংসদ সদস্য হিরো আলম বলবেন—
‘হামার একটা খতা তো শোনবে, হামার একটা খতা তো শোনবে...’
তখন কনকচাঁপা হিরো আলমের দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলে উঠবেন—
‘কিছু কিছু মানুষের জীবনে এমপি হওয়াটাই ভুল,
আর একটা কথা যদি বলে হিরো আলম
ছিড়ে নেবো মাথার ত্যালতেলে চুল।’
এতক্ষণ সংসদ সদস্য মাশরাফি চুপ করে ছিলেন। পরিস্থিতি গরম হয়ে যাচ্ছে দেখে তিনি বলে উঠলেন—
‘ভুল কথা বলছে কে? ভুল করলে কিন্তু ধইরে দিবানি।’
এই গোলমালের ভিতরে সংসদ থেকে একপক্ষ ওয়াকআউট করলেন। সংসদকক্ষ থেকে সবাই বেরিয়ে গেলেন।
মাননীয় সংসদ সদস্য মাশরাফি একা একা সংসদকক্ষে বসে রইলেন এবং ভাবতে লাগলেন—সারাজীবন বোল্ড আউট, ক্যাচ আউট, রান আউট করে এলাম। এই ‘ওয়াকআউট’ জিনিসটা কী? আউট হলে তো একজন ব্যাটসম্যান মাঠ থেকে বেরিয়ে যায়। এত লোক একসাথে কেন বেরিয়ে গেল এটা তো আমার মাথায় ঢুকছে না। এসব না বুঝে আমি কেন এমপি হলাম?
আসলে কনকচাঁপার কথাই ঠিক। কিছু কিছু মানুষের জীবনে এমপি হওয়াটাই ভুল।