একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

মানিকগঞ্জে সত্ ও ত্যাগী নেতাদের প্রার্থী করার দাবি

১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত মানিকগঞ্জে কোনো আসনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেনি। ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত জেলায় সংসদীয় আসন চারটি থাকলেও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি আসন কমিয়ে ফেলায় বর্তমানে জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন রয়েছে। এই তিনটি আসনে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে চমকপ্রদ কিছু হতে পারে বলে মনে করছে সাধারণ জনগণ। আর তৃণমূলের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের দাবি এবার মনোনয়ন যেন অর্থের বিচারে না হয়, সত্ ও দলের ত্যাগী নেতাদের যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়। অন্যথায় দলীয় প্রার্থীর হারার আশঙ্কা রয়েছে।

এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলার তিনটি আসনেই গত দুইবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়। তাই আওয়ামী লীগ রয়েছে এখন ফুরফুরে মেজাজে। যোগ্য অনেক নেতা বাদ পড়ার অভিযোগ থাকার পরও মানিকগঞ্জ জেলাসহ ওয়ার্ড পর্যায়েও দলটির রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে দলে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে নেতৃত্বের কোন্দলে এখনো অগোছালো জেলা বিএনপি। প্রায় চার বছর আগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি দলটি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিভাজন ছাড়াও রয়েছে আরো কয়েকটি উপদল। যে কারণে সভাপতি উপজেলা কমিটি গঠন করলেও অন্যপক্ষগুলো তা মেনে নেয়নি। জেলা কমিটির সব সদস্যদের নিয়ে এ               পর্যন্ত একটি মিটিংও করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে জেলা বিএনপি রয়েছে সাংগঠনিক সংকটে। আর নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এই সংকট আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

এদিকে বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়ন আর অগোছালো দলের কারণে বিএনপির প্রতি জনগণের সেই আগের আস্থা নেই বলে দাবি ক্ষমতাসীন দলের। তবে বিএনপির নেতারা জানান, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, পুলিশ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে মাঠে নামতে না দেওয়ার কারণেই বরং ক্ষিপ্ত জনগণ প্রস্তুত হয়ে আছে বিএনপিকে ভোট দিতে।

ইত্তেফাক/নূহু