নোয়াখালীতে অপহৃত স্কুলছাত্রী হাটহাজারীতে উদ্ধার, দম্পতি আটক

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী নাদিয়া আরফিন দোলনকে (৮) বুধবার রাতে হাটহাজারী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় আটক করা হয় অপহরণকারী দম্পতি শাহনাজ আক্তার পারভীন ওরফে পাখি (১৯) এবং নূর ইসলাম হৃদয়কে (২৩)। 
দোলন শনিবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয় । সে সোনাইমুড়ী থানার পতিশ এলাকার ওমান প্রবাসী মো. দুলাল হোসেনের মেয়ে এবং পতিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণির ছাত্রী।
দোলনের চাচা মো. আলাউদ্দিন জানান, শনিবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয় দোলন। ওইদিন বিকেলে পাখি এবং  হৃদয় মোবাইল ফোনে জানায় দোলনকে জীবিত ফেরত পেতে হলে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পরে জিডি করেন। 
এরপরও তাকে উদ্ধার করা না গেলে তিনি বুধবার র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। 
কল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাটহাজারীতে পাখি এবং হৃদয়ের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় র‌্যাব-৭ ।  এদিকে ২০হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে বলে তারা। আলাউদ্দিন ২শত টাকা পাঠান। বাকি টাকার জন্য তাদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলেন। 
পরে র‌্যাবের দেওয়া তথ্যমতে তিনি হাটহাজারীর লোহারপুলে এসে একটি বিকাশের দোকান থেকে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।
পাখি পতিশ এলাকার আজিজ পাটোয়ারি বাড়ির মো. শফিউল্লাহর মেয়ে ও সম্পর্কে দোলনের ফুফাত বোন। হৃদয় লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানার চরটিকার আকাব্বর সওদাগর বাড়ির আনিসুর রহমানের ছেলে।
পাখি ও হৃদয় বলেছে, ‍‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌"আমরা খেলনা কিনে দেওয়ার নাম করে দোলনকে অপহরণ করে প্রথমে কুমিল্লায় নিয়ে যাই। আটক হওয়ার ভয়ে সেখান থেকে ট্রেনে চট্টগ্রামে আসি। পরে দোলনকে নিয়ে হাটহাজারীতে এক আত্মীয়ের বাসায় যাই।"
ওসি মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, "র‌্যাব-৭ এর সহযোগিতায় পাখি এবং হৃদয়কে আটক করা হয়েছে। দোলনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে সোমাইমুরী থানায় হস্তান্তর করা হবে।"
 
ইত্তেফাক/ রাজেশ