কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের দিয়ে গড়ে উঠছে অস্থায়ী ক্যাম্প। হোয়াইক্যং রেঞ্জের আওতাধীন রইক্ষ্যং বনবিট সংলগ্ন কৃষি নির্ভর এলাকা পুটিবনিয়া গ্রামের ফসলি জমিতে রোহিঙ্গাদের এই অস্থায়ী ক্যাম্প করা হচ্ছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের জড়ো করে ঐ স্থানে পাঠানো হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গারা রইক্ষ্যংয়ের পুটিবনিয়া গ্রামে দলে দলে এসে জড়ো হচ্ছেন। সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গারা গাড়িতে করে যেন অন্য জায়গায় যেতে না পারে সে জন্য এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রোহিঙ্গারা যে যার মত করে পলিথিন ও বাঁশ-গাছ দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করছেন। স্থানীয়ভাবে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে রোহিঙ্গা নারীরা খোলা আকাশের নিচে রান্না-বান্নার কাজ করছেন।
স্থানীয়দের মতে, আজ সোমবার পর্যন্ত পুটিবনিয়া এলাকায় অন্তত পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা পলিথিনের ছাউনি দিয়ে ঘর তৈরি করেছেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য বিজিবির একটি অস্থায়ী মেডিকেল টিমকে কাজ করতে দেখা গেছে।
IMG0
এদিকে, কৃষি নির্ভর গ্রাম রইক্ষ্যংয়ের ফসলি জমিতে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী ক্যাম্প হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপুরণ দাবি করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক জানান, আসলে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কোনো ধরণের নির্দেশনা আসেনি। তাই এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল এসএম আরিফুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গারা যেন এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেতে না পারে সে জন্য তাদেরকে নির্দিষ্ট একটি স্থানে রাখা হচ্ছে।
বিজিবির অধিনায়ক আরো জানান, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের গাড়িতে করে অন্য কোথাও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
তবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (কক্সবাজার দক্ষিণ) মো. আলী কবীর জানান, বিষয়টি শুনেই আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
ইত্তেফাক/কেকে