বালিয়াকান্দিতে মীর মশাররফ হোসেনের সমাধিস্থলে যাওয়ার সড়কটি বেহাল

বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে অবস্থিত কালজয়ী উপন্যাস ‘বিষাদ-সিন্ধ’ুর রচয়িতা একবিংশ শতাব্দীর বিস্ময়কর মুসলিম প্রতিভা ও বাংলা সাহিত্যের পথিকৃত্ মীর মশাররফ হোসেনের সমাধিস্থলে যাওয়ার একমাত্র সড়কটির বেহাল দশা।

দীর্ঘদিন সড়কটির সংস্কার না করায় এখন সেটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আটটি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের। প্রায় এক যুগ ধরে সড়কটির এই হাল হলেও নজর নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আনন্দবাজারের মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি তোরণ গেট থেকে পদমদী গাংচর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় চার কি.মি রাস্তাটির সম্পূর্ণ রাস্তার বিটুমিন উঠে ভেঙে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বিটুমিন উঠে যাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে এই এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। অন্যদিকে এই সড়কটি সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতি বিজড়িত পদমদীতে তার সমাধিস্থলে যাওয়ার একমাত্র সড়ক হওয়ায়  দিন দিন দর্শনার্থীও কমে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও বাংলা একাডেমির বাস্তবায়নে দুই কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে মীর মশাররফ হোসেনের সমাধিস্থলে তার স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতি কমপ্লেক্সটি ২০০৫ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেন। তারপর থেকে আজ অবধি এই সড়কটির আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘ ১২ বছর সড়কটি মেরামত না করায় এটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন শেখ জানান, সড়কটি সংস্কারের অভাবে আমাদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিন পদমদী, দক্ষিণবাড়ী, গাংচরসহ আশে-পাশের প্রায় আটটি গ্রামের লোক এই সড়কটি দিয়ে হাট-বাজারে আসা-যাওয়া করে।

মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ বিনয় চক্রবর্তী জানান, মীর মশাররফ হোসেন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মীরের ভক্তরা তার সাহিত্যকর্মকে অবলোকন করার জন্য তার সমাধিস্থলে এই সড়কটি দিয়েই আসা-যাওয়া করেন। অথচ এই সড়কটির এখন করুণ অবস্থা। সড়কটি যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করা প্রয়োজন।

নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন আলী জানান, এই সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন দর্শনার্থী আসেন মীরের সমাধিস্থলে। সড়কটি ভাঙা থাকার কারণে এখানে আর কেউ আসতে চায় না।

ইত্তেফাক/নূহু