ঈদ শেষে এবার কর্মস্থলে ফেরার পথে যুদ্ধে নেমেছে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের নৌযানগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। ধারণ ক্ষমতার ৪/৫ গুন বেশি যাত্রী নিয়ে সরকারি-বেসরকারি নৌ-যান যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেছে। নৌ-পথের পাশাপাশি সড়ক পথেও যাত্রীদের চাপ ছিল।
বিআইডব্লিউটিসি ঈদ পরবর্তী স্পেশাল সার্ভিস ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে সিডিউল ঘোষণা করেছিল। ঈদের পূর্বে সংস্থাটি ৬ দিন স্পেশাল সাভির্সে যাত্রী পরিবহন করলেও ঈদ পরবর্তী মাত্র ৩ দিন স্পেশাল সার্ভিসের সিডিউল সংশোধিত ঘোষণা করায় ঢাকা-চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সরকারি নৌ-যানের ঈদ স্পেশাল সার্ভিস যাত্রী বান্ধব নয় উল্লেখ করে দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। শেষ মুহূর্তে ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার ঈদ পরবর্তীত তিন দিনের স্পেশাল সার্ভিসের সিডিউল চূড়ান্ত করে বিআইডব্লিউটিসি। কিন্তু বৃহস্পতিবার শেষ কার্যদিবসে বিআইডব্লিউটিসি’র এ উদ্যোগ আর যাত্রীরা জানতে পারেনি। সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের ছুটির পরে ৪ সেপ্টেম্বর অফিস খোলা থাকলেও ৫ তারিখের এ স্পেশাল সার্ভিসের কথা যাত্রীদের জানানো হয়নি। যাত্রীদের অভিযোগ বিলম্বে স্পেশাল সার্ভিস ঘোষণা করায় অনেকেরই বিষয়টি অজানাই থেকে যায়। ঈদ স্পেশাল সার্ভিস সম্পর্কে সংস্থাটি কোনো প্রচার-প্রচারণা করেনি বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।
বিআইডব্লিউটিসি’র এখানকার সহ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে জানান, গতকাল মঙ্গলবার নিয়মিত সার্ভিসে থাকা পিএস অষ্ট্রিচের পাশাপাশি নতুন স্পেশাল সার্ভিসে যুক্ত হওয়া পিএস টার্ন যাত্রী পরিবহন করেছে। আজ বুধবার নিয়মিত সার্ভিসে থাকছে সংস্থার বড় জাহাজ এমভি বাঙালী। তিনি জানান বৃহস্পতিবার নিয়মিত সার্ভিসে থাকা পিএস লেপচার সাথে স্পেশাল সার্ভিসে যুক্ত হচ্ছে পিএস টার্ন। শুক্রবার নিয়মিত সার্ভিসে পিএস মাহসুদ’র সঙ্গে স্পেশাল সার্ভিসে পিএস অষ্ট্রিচ যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাবে।
সরকারি জাহাজের এ বেহালদশার পুরো ফায়দা লুটে নিচ্ছে বেসরকারি নৌযান মালিকরা। বিলাসবহুল লঞ্চের তকমা লাগিয়ে ধারণ ক্ষমতার ৫ থেকে ৭ গুন যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা এসব লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে ধর্না দিয়ে কেউ কেউ টিকেট পেলেও অনেকেরই যেতে হচ্ছে ডেকে কিংবা ছাদে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠাসাঠাসি করে গন্তব্যে পৌঁছলেও ভাড়া গুনতে হচ্ছে বাড়তি। যাত্রী হারুন অর রশিদ জানান, ঈদের পূর্বে পরিবার পরিজন নিয়ে বিলাসবহুল লঞ্চের ভিআইপি কেবিনে দেড়গুন ভাড়া গুনে আসলেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এসি বন্ধ থাকায় প্রচণ্ড গরমে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আবার খাবারের দামও রাখা হয়েছে তিন থেকে চারগুণ বেশি।
বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঈদে বাড়তি চাপ সামাল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। তাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামান্য অসুবিধা হতে পারে।
বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ’র উপ-পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধকল্পে জেলা প্রশাসন থেকে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের সকল কর্মকর্তার ঈদের ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন ঈদুল আযহায় নতুন নৌযান সুন্দরবন-১১, তাসরীফ-৩, তাসরীফ-৪, এ্যাডভেঞ্জার -১ যুক্ত হওয়ায় যাত্রীরা ঈদুল ফিতরের চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে যেতে পারছেন।
গতকাল মঙ্গলবার কীর্তনখোলা-১ ও ২, সুন্দরবন-১০-১১, সুরভী-৮- ৯, টিপু-৭, ফারহান-৮, পারাবত-৮-৯, ১১ও ১২ এবং তাসরীফ-৪, এ্যাডভেঞ্জার-১, দেশান্তর, গ্রীন লাইনসহ ১৬টি নৌযান বরিশাল-ঢাকা রুটে সরাসরি যাত্রী নিয়ে নৌ-বন্দর ত্যাগ করেছে।
নৌবন্দরের দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট ও নৌ- থানা পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন নির্ধারিত লোড সাইন অতিক্রম করার আগেই লঞ্চগুলোকে নৌ-বন্দর ত্যাগ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু