সাংসদ তানভীর ইমামের সমর্থকরা মারলেন উল্লাপাড়া স্টেশন মাস্টারকে

স্ত্রীকে ট্রেনে তুলে দিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান সাংসদ তানভীর ইমাম। সোমবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া স্টেশনে এ ঘটনার পর সাংসদেরর সমর্থকরা সহকারী স্টেশন মাস্টার আবদুল বাতেনকে চড়থাপ্পড় মারেন এবং সিগন্যালের লাঠি দিয়ে পেটান। স্টেশন মাস্টার আবদুল বাতেন ডান হাতের কব্জি ও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। পরে তাকে পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ট্রেন থেকে পড়ে সাংসদ হাঁটুতে আঘাত পান। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবদুল বাতেন জানান, সোমবার বিকেল পৌনে ৩টায় উল্লাপাড়া থেকে চিত্রা আন্তঃনগর ট্রেনে স্থানীয় সাংসদ তানভীর ইমাম ও তার স্ত্রী ঢাকা যাবেন বলে তারা জানতে পারেন। দু'জনকেই ট্রেনে উঠতে দেখেন তিনি।

অন্যান্য দিন উল্লাপাড়া স্টেশনে যাত্রী ওঠানামার জন্য চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন তিন মিনিট দাঁড়ালেও সোমবার প্রায় সাড়ে ৪ মিনিট পর ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার জন্য সিগন্যাল দেওয়া হয়। তারা তখনও জানতে পারেননি যে, সাংসদ তার স্ত্রীকে তুলে দিতে এসেছেন। ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে সাংসদ হাঁটুতে ব্যথা পান। এ ঘটনার পরপরই তাকে বেধড়ক পেটান সাংসদের ১০-১৫ সমর্থক।

উল্লাপাড়ার স্টেশন মাস্টার শামসুল আলম বলেন, 'আমি সাংসদের সঙ্গে থাকায় আমাকে মারধর করার সুযোগ না পেলেও গালমন্দ করা হয়েছে। সাংসদ যে ঢাকা যাবেন না, তা আমিও আগে জানতাম না।' সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ওসি সাঈদ ইকবাল বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ বা এজাহার দেননি।

পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগ পাকশীর বিভাগীয় ট্রাফিক অফিসার শওকত জামিল মোহসী বলেন, 'সাংসদের সমর্থকরা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানোয় আমরাও বিব্রত। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।' পাকশী রেল বিভাগের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) অসিম কুমার তালুকদার বলেন, বিষয়টি অনাঙ্ক্ষিত।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সাংসদ তানভীর ইমাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে  বলেন, 'স্টেশন মাস্টারদের নির্বুদ্ধিতার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত এ স্টেশনে যাত্রী ওঠানামার জন্য কমপক্ষে পাঁচ মিনিট দেরি করে ট্রেন; কিন্তু মাত্র চার মিনিট পর ট্রেনটি ছেড়ে দেয়। আমি নামতে গিয়ে পড়ে যাই। সবাই আমাকে ধরাধরি করে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে নিয়ে যায়। তারা আমার ক্ষতস্থানে ডেটল লাগিয়ে দেন। আমি যতক্ষণ সেখানে ছিলাম, মারধর তো দূরের কথা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাই ঘটেনি। আমি চলে আসার সময় বিষয়টি তদন্ত করে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে রেল কর্তৃপক্ষকে জানাব বলে তাদের ভয় দেখাই। এমন কথা বলে চলে আসার পর বিষয়টি রঙচঙ লাগিয়ে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু