জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায় ব্রিজ ভেঙ্গে নদীতে পড়ে ১০ জন আহত হয়েছে। উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের নেকিরহাট এলাকার খারুভাজ নদীর ওপর থাকা ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে গত শনিবার সন্ধ্যায়। ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ায় ওই এলাকার প্রায় ২৪টি গ্রামের ২৮ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার শেষ সীমানায় হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন। তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ও তারাগঞ্জ শহরের সঙ্গে রংপুর শহরের যোগাযোগ সহজ করতে ১৯৯৬ সালে খারুভাজ নদীর ওপর নেকিরহাট এলাকায় ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য ৫ মিটার ও প্রস্থ ৫ দশমিক ৫ মিটার। গত বছরের ভয়বাহ বন্যায় ব্রিজটির গাইড ওয়াল ভেঙ্গে নদীতে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফাটল দেখা দেয় বিভিন্ন স্থানে।
ওই সময় এলাকার লোকজন ব্রিজটি সংস্কারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। উপজেলা প্রকৌশলীকেও বিষয়টি অবগত করেছিলেন বলে তারা জানান। তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি মেরামত বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
স্থানীয় লোকজন জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে খারুভাজ গ্রামের আফজাল হোসেন, সাইফুল রহমানসহ বেশ কয়েকজন বাজার করতে নেকিরহাটে যাচ্ছিলেন। তারা ব্রিজটিতে উঠলে ব্রিজটির পশ্চিম দিকের অংশ হঠাৎ ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। এতে ভাঙ্গা ব্রিজের নিচে চাপা পড়ে খারুভাজ গ্রামের আফজাল হোসেন, সাইফুল ইসলামের হাত-পা ভেঙ্গে যায়। মাথা ফেটে যায় নদীরপার গ্রামের সাইদুল, মিনরুজ্জামান ও একরামুল হোসেনের। এছাড়া মোক্তারুল, সোলায়মান, লালমিয়া, রমজান ও আতিয়ার রহমান আহত হন।
হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ বাবুল বলেন, ব্রিজটি দিয়ে ২৪ গ্রামের লোকজনসহ স্কুল ও কলেজের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করে। ব্রিজটি দিয়ে রংপুর শহর বা তারাগঞ্জ শহর যোগাযোগের জন্য সহজ ছিলো। এ এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য অল্প সময়ে যানবাহনে করে নিয়ে যেতে পারতেন। এখন ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় তাদের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ গুরুদাসপুরে কৃষকের হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল প্রতিপক্ষ
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আলী হয়দার জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই স্থানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য রংপুর ও ঢাকা প্রকৌশলী বিভাগে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যেই নতুন ব্রিজ নির্মান করা হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু