নাটোরের লালপুরে প্রেমিকার বাড়িতে এসে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন কাওছার হোসেন (৩৫) নামের এক যুবক। কাওছার হোসেন বরিশালের বাকেরগঞ্জের রিয়াজুল মির্জার ছেলে এবং তার প্রেমিকা নাটোরের মেয়ে। বুধবার সকালে কাওছার বিষপান করেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকার আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতে গিয়ে মেয়েটির (২৫) সঙ্গে কাওছারের (৩৫) প্রেমের সম্পর্ক হয়। তারপর আশুলিয়া এলাকায় তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে প্রায় দুই বছর একসঙ্গে বসবাস করেন। কিন্তু তাদের বিয়ে হয়নি। বিষয়টি মেয়েটির পরিবারের লোকজন আগে থেকেই জানতেন।
তাদের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটির একপর্যায়ে কাওছার মঙ্গলবার বিকেলে মেয়েটির বাবার বাড়ি লালপুরের দাঁইড়পাড়া গ্রামে আসেন। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে মেয়েটি ট্রাক ভাড়া করে আশুলিয়ার বাসা থেকে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন।
বাসার সব মালামাল নিয়ে আসা নিয়ে সেখানে রাতে মেয়েটির সঙ্গে কাওছারের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় মেয়েটি তাদের সম্পর্কের কথাও অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে তার আত্মীয় স্বজনরা কাওছারকে মারধর করেন। মার খেয়েও ওই বাড়িতেই তিনি রাত্রি যাপন করেন।
পরদিন (বুধবার) সকাল আটটার দিকে মেয়েটির বাবা গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের দুজনকেই বাড়ি থেকে বের করে দেন। বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রেমিকার উপর অভিমান করে বিষপান করেন কাওছার।
গ্রামবাসী তাকে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ার আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে কাওছারের আত্মীয়-স্বজনরা রাতেই তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান।
কদিমচিলান ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মাস্টার ও লালপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।
ইত্তেফাক/ রাজেশ