লেখা মুহসিন ইরম
আঁকা রবিউল ইসলাম সুমন
আপনি নাকি ট্রেন ভ্রমণে গেলে কখনো টিকিট কাটেন না। কেমনে কী? টিটি এসে ধরে না?
আরে নাহ, এক ডজন মিনারেল ওয়াটার নিয়ে ট্রেনে উঠি। পুরো ট্রেনে বেচতে বেচতে গন্তব্যে চলে যাই। টিটি হকার ভেবে ফিরেও তাকায় না। এক্ষেত্রে আমার কিছু ইনকাম হয় আবার টিকিট কাটাটাও লাগে না!
আপনাকে কোনো দিন বড় মাছ কিনতে দেখলাম না চাচা! বড় মাছ কি আপনার পছন্দ না?
না বাজান! আসল ব্যাপার হইতেছে, যে টাকায় একটা বড় মাছ কিনমু ঠিক সে টাকায় ছোট মাছ কেনা যাবে হাজারটা। শুধু শুধু একই পরিমাণের টাকায় অল্প মাছ কেনে কোন বোকা?
শুনেছি আপনি কৃপণ মানুষ, তাইলে বিয়ার দাওয়াতে যাইতে চান না ক্যান? এক বেলার খাবার খরচটা তো বাঁচে।
এক বেলার খরচ বাঁচাতে চার বেলার টাকা গচ্চা দেওয়ার পাবলিক আমি না। জামা-জুতা ক্রয়, যাতায়াত ভাড়া, গিফটসহ আনুষাঙ্গিক যে খরচ হয়; সেটা আমার তিন-চার বেলার খাবার খরচের সমপরিমাণ।
কী ব্যাপার গুলিস্তান থেকে শ্যামলী হেঁটে আসলেন নাকি? কেমন যেন ক্লান্ত লাগছে।
আর বইলেন না। শ্যামলী নামলেও কল্যাণপুরের ভাড়া দেওয়া লাগবে এই নাকি সিস্টেম। এজন্য এক বাসস্ট্যান্ড এগিয়ে কল্যাণপুর নেমে এখন আবার শ্যামলীতে ব্যাক করলাম। যতটুকু ভাড়া ততটুকু ভ্রমণ, কম করলে লসটা তো আমারই হতো।
স্যার, আপনি তো অফিস টু বাসায় যাতায়াত করেন। কোথাও তেমন যানও না। এই ঢাউস সাইজের পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখার কী দরকার?
আরে বোকা, আমি এই পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখি যেন অফিস থেকে ফুলচার্জ করে নিয়ে বাসায় থাকার সময়টায় মোবাইল চার্জ করতে পারি। বাসায় কখনো আমি পাওয়ার ব্যাংক ছাড়া চার্জারে মোবাইল চার্জ করি না।