রাবি শিক্ষিকার আত্মহত্যা: সহকর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তারই জুনিয়র সহকর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি বলে জানা গেছে।
 
গত অগাস্টে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ব্রজ গোপাল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে জানান। তবে জলির আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি বলে জানা গেছে।
 
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে জলির নিজের কক্ষের দরজা ভেঙ্গে তার মরদেহ এবং সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। নোটে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম। সোয়াদকে (ছেলে) যেন ওর বাবা কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে যেকোনো সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে।’
 
এ ঘটনার পরদিন আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে জলির ছোট ভাই কামরুল হাসান বাদী হয়ে মতিহার থানায় অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
 
পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ নভেম্বর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আকতার জাহানের জুনিয়র সহকর্মী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান রাজাকে আটক করে পুলিশ। ৫ নভেম্বর আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
 
গ্রেফতারের পর রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) আল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আকতার জাহানের ফোন কল ও এসএমএস লিস্ট উদ্ধারের পর সেগুলো যাচাই বাছাই করে এবং আতিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে ‘আত্মহত্যার’ পেছনে তার জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। গ্রেফতার থাকায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিনে ছাড়া পান।
 
অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে তার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি