পরকীয়ায় বাধা: বান্ধবীর আগুনে দগ্ধ রেখার মৃত্যু

 
পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় বান্ধবী ফেরদৌসির দেয়া আগুনে দগ্ধ রেখা বেগম টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক)বার্ন ইউনিটে সোমবার বিকেলে তিনি মারা যান।
 
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রেখার শারীরিক অবস্থা রবিবার দুপুরের দিকে অবনতি হয়। ওই বিকেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল। সোমবার দুপুরের দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে বার্ন ইউনিট থেকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আইসিইউতে নেয়ার আগেই স্বামীর পরকীয়ার বলি হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রেখা।
 
রামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের ইনচার্জ ডা. আফরোজা নাজনিন জানান, রেখার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। উপরন্তু তার ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপ থাকার কারণে শরীরিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতদসত্ত্বেও রেখাকে সুস্থ করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছিলেন তারা।
 
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়েরকৃত রেখা বেগমের ভাই নওশাদ আলীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেরদৌসি  এবং রেখা বাল্যকালের বান্ধবী। দুজনে একসঙ্গেই লেখা পড়া করেছেন। এ সুবাদে  রেখার স্বামী কামরুল হুদার সঙ্গে ফেরদৌসি পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বৃহস্পতিবার রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে ফেরদৌসি আগুন ধরিয়ে দেন ।
 
ঘটনাদিন রাতেই পুলিশ কসাইপাড়ার আলম হোসেনের মেয়ে ফেরদৌসিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। এদিকে শনিবার দুপুরে রেখার স্বামী কামরুল হুদা নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় আত্মসমর্পণ করেন। তারা দুজনেই বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি