চেইন চুরি ও রিমান্ড

 

তন্ময় আলমগীর

 

অফিস থেকে বের হতেই বউ ফোন দিয়ে বলল, ‘লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে! তাড়াতাড়ি বাসায় আসো।’ দ্রুত বাসায় পৌঁছে দেখি গেটের সামনে মানুষের জটলা। গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের গাড়ি দেখে চোখ কপালে উঠে গেল আমার। কী এমন ঘটেছে যে, পুলিশ পর্যন্ত চলে এসেছে।

গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকতে যাব অমনি গোঁফওয়ালা এক ছিপছিপে পুলিশ পথরোধ করে আমার পরিচয় জানতে চাইল। আমি একজন ভাড়াটিয়া, এমন পরিচয় জেনে আমাকে দেখতে লাগল আসামি শনাক্ত করার চোখে। ‘কী ব্যাপার, ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না কেন?’

পুলিশ বলল, ‘বাসার মালিকের গলার হিরার চেইন চুরি হয়েছে।’

—কখন?

—দুপুরে।

—আমি তো সকালেই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েছি।

পুলিশ বলল, ‘আপনার স্ত্রী তো বাসায় ছিল, তাই না? তা ছাড়া শুধু আপনারা না, এ বাসার সবাইকে চেক করা হচ্ছে। পাওয়া না গেলে মামলা করবে মালিক।’

তা-ই হলো। আসামি করা হলো এ বাসার সব ভাড়াটিয়াকে। প্রত্যেক ভাড়াটিয়ার রুম তল্লাশি করেও চেইনের সন্ধান পেল না পুলিশ। বাসার মালিক ভিআইপি পারসন হওয়ায় ক্ষমতাবলে পুলিশ সন্দেহভাজন দশজন ভাড়াটিয়াকে থানায় নিয়ে গেল। আশ্চর্যজনকভাবে সে দশজনের মধ্যে আমিও একজন। তারপর কোর্টের মাধ্যমে চালান করে দিল জেলখানায়। সাথে দুদিনের রিমান্ড।

রিমান্ডের কবলে পড়ে প্রত্যেকের প্রাণ ওষ্ঠাগত। চুরি না করেও জেল খাটছে, চুরির অভিযোগে আত্মীয়স্বজনসহ সবার কাছে অপমানিত হয়েছে। এখন আবার রিমান্ডের ধোলাই! শুরুতে অস্বীকার করলেও মাইরের তোড়ে কেউই টিকতে পারল না। হোক চেইনের দাম দশ লাখ বা দশ কোটি। একজন না, জনে জনে প্রত্যেকেই স্বীকার করল চেইন চুরির কথা। পুলিশ অবাক হয়ে মালিকের কাছে জানতে চাইল, চুরি হওয়া চেইনের সংখ্যা কি দশ?

রিমান্ডের পরদিন জানতে পারল চেইন চুরি হয়নি। শাড়ির ভাঁজে ঢুকে আলমারিতে স্থান নিয়েছিল। রিমান্ডের ধোলাই খাওয়া দশজনের প্রত্যেকে সমস্বরে না না করে চিত্কার দিয়ে বলল, ‘চেইন আমি চুরি করেছি, চেইন আমি চুরি করেছি!’

করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ।