ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলে বর্ণনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংগঠনটি আরো বলেছে, গত দুই মাসে সৌদি জোটের বিমান হামলায় ৩৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৬ জন শিশু রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মঙ্গলবার জানায়, সম্প্রতি ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়াভাবে চারটি পরিবার এবং একটি মুদি দোকানের উপর মোট ৫টি বিমান হামলা চালানো হয়। এসব হামলার মাধ্যমে বাছবিচারহীনভাবে বেসামরিক মানুষ হত্যা করা হয়েছে, যা যুদ্ধের আইনের পরিষ্কার লঙ্ঘন। সংগঠনটি আরো বলেছে, গত ৪ আগস্ট সৌদি জোট সাদ এলাকায় একটি বাড়িতে বিমান হামলা চালিয়ে একই পরিবারের নয়জনকে হত্যা করে, যাদের মধ্যে তিন থেকে ১২ বছরের ছয়জন শিশু ছিল। এছাড়া ৩ জুলাই তাইজ প্রদেশে এক পরিবারের উপর বিমান হামলা চালানো হয়, যেখানে নিহত হয় আটজন, যাদের মধ্যে এক নারীসহ আট বছরের এক কন্যা শিশু ছিল।
এর আগে গত সোমবার জাতিসংঘ জানিয়েছিল, সৌদি জোটের বিমান হামলায় ৫ হাজার ১৪৪ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হবার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে একটি আর্ন্তজাতিক তদন্ত অতীব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক লিহ হুইটসন এক বিবৃতিতে জানান, সৌদি জোট অনেকবার অঙ্গীকার করে বলেছে তারা বেআইনিভাবে ইয়েমেনের শিশুদের উপর কোন হামলা চালাবে না। যেহেতু তারা তাদের দেয়া কথা রাখেনি, তাই সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের প্রতি সহিংসতার জন্য জাতিসংঘের ‘লজ্জার তালিকায়’ এই জোটের নাম অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ জানিয়েছে, ৬ জুন থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত জোটের হামলার শিকার পরিবারগুলোর নয় সদস্যের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, এসব পরিবারের সাথে সম্ভাব্য কোন জঙ্গি সংযোগ ছিল না। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এ বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু করার আহবানও জানিয়েছে।
সৌদি জোট বরাবরের মতই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি বেসামরিক মানুষ নয়, বরং শিয়া সংগঠন হাউতি বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে এসব হামলা চালানো হয়েছে। ২০১৫ সালে হাউতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ এবং জোটের বিমান হামলায় অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া ৩০ লক্ষ মানুষ তাদের ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। রয়টার্স
ইত্তেফাক/সাব্বির