ক্যাসিয়াসকে ছাড়িয়ে মেসি

লিগ জয়ের আরো

কাছে বার্সা

 স্পোর্টস ডেস্ক

লিওনেল মেসি ইদানিং মাঠে নামলেই যেনো রেকর্ড এসে লুটিয়ে পড়ছে পায়ে। শনিবার রাতে ক্যাম্প ন্যুতে লা লিগার দ্বৈরথে লুই সুয়ারেজ ও তার গোলে বার্সেলোনা যখন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারালো, স্প্যানিশ লিগ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ডটা নিজের করে নিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। তবে এ রেকর্ডকে একপাশে রাখলেও জয়টা দারুণ মাহাত্ম্য পাবে বার্সা অধিনায়কের কাছে। পয়েন্ট তালিকার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে তার দল যে ২৬তম লিগ শিরোপার আরো কাছে চলে এসেছে! 

ম্যাচের বয়স তখন পঁচাশি মিনিট। প্রথমার্ধে ডিয়েগো কস্তার লালকার্ডের পরও সমানভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ম্যাচটা যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে তখনি ২৫ গজ দূর থেকে শট নিলেন লুই সুয়ারেজ। পুরো ম্যাচে বার্সার আটটি শট রুখে দেওয়া ইয়ান অবলাকের নাগালের একটু বাইরে দিয়ে আছড়ে পড়লো জালে। পঞ্চাশ মিনিট একজন কম নিয়েও দারুণ লড়াই করা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মনোবলও এবার ভাঙলো। যার সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত প্রতি আক্রমণে ‘রোহিব্ল্যাংকো’ রক্ষণকে একাই পরাস্ত করে লিওনেল মেসি স্কোরশিটে নাম তুললে জয় নিশ্চিত হয় বার্সার। ক্যারিয়ারের ৩৩৫তম লা লিগা জয়টি তুলে নিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা ছাড়ান সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসকে।

এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাটলেটিকো থেকে ১১ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও এখনই শিরোপা জয় দেখছেন না দলের কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট। এর ফলে শিরোপার কাছাকাছি চলে এলেও এখনই শিরোপা হাতে পাইনি আমরা। এখনো অনেক কাজ বাকি।’

মৌসুমের শুরুতে ছন্দহীনতার কারণে কম গঞ্জনা সইতে হয়নি সুয়ারেজকে। উরুগুয়ান স্ট্রাইকার এদিন তো গোল করলেনই, এমন এক কীর্তি গড়লেন যা মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বাদে এ শতাব্দীতে ছুঁতে পারেননি আর কোনো লা লিগা ফরোয়ার্ডই। এ নিয়ে চারটি ভিন্ন ভিন্ন লা লিগা মৌসুমে ২০ কিংবা তার বেশি গোল করেছেন তিনি, যার বেশি মৌসুমে এই কীর্তি কেবল মেসি (১১) ও রোনালদোরই (৯) আছে। কোচ ভালভার্দে তার প্রশংসায় বলেন, ‘সে সব সময়ই দলের জন্য নির্ণায়ক হয়ে যায়। প্রতিপক্ষ রক্ষণের মাথা ব্যথার কারণ সে কেননা আপনি জানেন না সে কখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করবে।’   

এদিকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কোচ দিয়েগো সিমিওনে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন রেফারিংকেই। প্রথমার্ধে রেফারি গিল মানজানোর সঙ্গে অশ্লীল বাক্য ব্যবহারের কারণে লাল কার্ড দেখেন কস্তা। সিমিওনের দাবি, পরে অন্য খেলোয়াড়রা এমন ব্যবহার করেও পার পেয়ে গেছেন। আর্জেন্টাইন কোচের ভাষায়, ‘আমি রেফারিকে জিজ্ঞেস করাতে সে এমন কিছুর কথা বলেছিল যার ব্যাপারে কস্তা অস্বীকার করেছে। যদি রেফারির কথা সত্যি হয়ে থাকে তবে লাল কার্ডই প্রাপ্য কস্তার। তবে অন্য খেলোয়াড়রা এমন কিছু বলেছে এবং সে তাদের কার্ড দেখায়নি। তবে সেটা কস্তার কাজকে মোটেও গ্রহণযোগ্য করে তোলে না। যদি রেফারি মনে করে কস্তা তাকে অসম্মান করেছে তবে সংগত কারণেই লাল কার্ড দেখেছে সে। কিন্তু সবার জন্য এটা সমান হয়নি।’